Durga Puja: অনলাইনের প্রকোপে মন্দা পুজোর বাজারে, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

কৌশিক রায়: পুজো শুরু হতে বাকি আর কদিন।

গত দু’‌বছরের কোভিড অতিমারি কাটিয়ে পরিস্থিতি এবার অনেকটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাও মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। গত দু’‌বছরের কথা বাদ দিলে পুজোর এক মাস আগে থেকে হাতিবাগান, নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট চত্বরে পা রাখার জায়গা থাকে না। সেই তুলনায় যখন পুজোর বাকি মাত্র আর দিন দশেক তখনও ভর সন্ধেবেলায় মাছি তাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী রবিবার মহালয়া। কলকাতায় তিন তিনটে বড় মার্কেটে যে পরিমাণ ভিড় হওয়ার কথা, দেখা গেল না তার সিকিভাগও। করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে লাভের আশায় চলতি বছর নতুন স্টক তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ব্যবসার হাল এতটাই খারাপ পুরোনো স্টকই শেষ হয়ে ওঠেনি নতুন স্টক তো দূরের কথা। মঙ্গলবার সন্ধেবেলায় গড়িয়াহাট চত্বরে দেখা গেল সাধারণ মানুষের ভিড় রয়েছে এমনকি তা সামলানোর জন্য পুলিশকর্মীরাও এগিয়ে এসেছেন। কিন্ত ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞেস করে দেখা গেল যতটা ভিড় ততটা বিক্রি মোটেই নেই। স্বপন সাহা নামে গড়িয়াহাটের এক ব্যবসায়ী জানালেন, ‘‌এবারে ব্যবসা এমনকী গত বছরের তুলনায়ও খারাপ। শনিবার, রবিবার ছাড়া ভিড় হচ্ছে না। সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে মানুষ যে কেনাকাটা করবেন সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। ২০২১ সালে আমরা কম স্টক তুলেছিলাম, কিন্তু ব্যবসা এবারের থেকে ভাল হয়েছিল। পুজোর বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। আসল কেনাকাটার সময় তো চলেই গেল। প্রথম দিকেই ভাল কাস্টমার পাওয়া যায়। দিন তো শেষ হতেই চলল।’‌ 
কসমেটিক্সের দোকানের দিকে ঘুরে দেখা গেল হাতে গুনে দু একটা দোকানে ভিড় রয়েছে। কাস্টমারের অপেক্ষায় হা পিত্যেশ করে বসে আছেন বেশির ভাগ ব্যবসায়ী। ব্যবসা কেমন চলছে জিজ্ঞেস করায় জানালেন, ‘‌ব্যবসা যদি চলত আপনি এই সময় আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন না। কোভিড অতিমারির আগে এই সময় গড়িয়াহাটের ফুটপাথে দাঁড়ানো যেত না। প্রচুর মাল তুলে রেখেছি, কিন্ত মার্কেট একদম ডাউন। আগে সকাল থেকে খাওয়ার সময় পেতাম না ক্রেতার চাপে। আর এখন খাচ্ছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি।’‌ একই অবস্থা নিউ মার্কেটেরও। গ্র্যান্ড হোটেলের পাশের গলি থেকে লিন্ডসে স্ট্রিট পর্যন্ত রাস্তায় আগে হাঁটা যেত না। পথ জুড়ে শুধু মানুষের কালো মাথা। ইমিটেশন থেকে শুরু করে কাজল, লিপস্টিকের বিভিন্ন জিনিসের পশরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। যে রাস্তাটা পার হতে আগে ১৫ মিনিট সময় লাগত এখন সেটা লাগল ৫ মিনিট। শ্যামল মাইতি নামে এক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘‌কোভিড অতিমারির সময়ে অনেক মানুষের চাকরি চলে গেছে। যাদের শপিং মলে কেনাকাটা করার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য আমরা আছি। কিন্তু এবারে সেই ধরনের মানুষের সংখ্যাটাও অনেক কম। দশটা দোকান ঘুরে দর দাম করে জিনিস কেনার যে মজা, অনলাইনের ডিসকাউন্ট আর শপিং মলের যুগে হারিয়ে গেছে সেটা।’‌ 
নিউ মার্কেটে দোকান রয়েছে শৌভিক সরকারের। পুজোর বাজার কেমন চলছে জিজ্ঞেস করতে জানালেন, ‘‌আগে এই এক মাস পুজোর বাজারে আমাদের প্রায় ছ’মাসের লাভ হত। লকডাউনে মানুষের অনলাইনে কেনার ঝোঁক বেড়েছে। যার কারণে ভিড় এতটা কম। মানুষ ঘরে বসে যদি সব হাতের মুঠোয় পেয়ে যায় তারা আর বাইরে কেন বেরোবে বলুন।’‌ 
পুজো আর চৈত্র সেলের সময় হাতিবাগান দিয়ে যাতায়াত করা মুশকিল হয়ে পড়ে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানালেন, এবার সেই ভিড়ের লেশমাত্র নেই। হাতিবাগানে দোকান রয়েছে সন্তু পালের, তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘‌লকডাউনের পর, গতবছর বাজার তাও কিছুটা ভাল ছিল, এবার বাজার আরও খারাপ। রাস্তা ফাঁকা। আগের সেই ভিড়ের নামমাত্র নেই এবছর।’‌ উত্তরা মার্কেটে দোকান রয়েছে বাপি সরকারের, তিনি বলছেন, ‘‌পুজোর জন্য নতুন স্টক নামিয়েছিলাম। অর্ধেকের বেশি বিক্রি হয়নি। আগের বছর বাজার আরও ভাল ছিল।’‌ একই কথা শোনা গেল গোপাল সরকারের গলাতেও। তাঁর মতে, করোনার সময়েও বাজার ভাল ছিল অনেক। এবার বাজার খারাপ। তিনি জানালেন, ‘‌হাতে আর এক সপ্তাহ, দিন এগিয়ে আসছে, বাজার ছোট হবে। আগে দাঁড়ানো যেত না। হিমশিম খেতাম বিক্রি করতে। এখন ভিড় নেই, যতটুকু ভিড় আছে বিক্রি ততটাও নয়।’‌ পুজো মানেই নতুন জামা কাপড়, শাড়ি আর তার সঙ্গেই গয়না কেনার ধুম। কিন্তু গয়নার দোকানেও এবার বিক্রি নেই তেমন। জানাচ্ছেন হাতিবাগানের সন্তোষ পাল। তিনি বলছেন, ‘‌একটা সময় এই পুজোর আগে ঘিরে ধরত মানুষ। এখন একেবারে ফাঁকা। মানুষের হাতে টাকা নেই।’‌ 
তথ্য সহায়তা: রিয়া পাত্র

আরও পড়ুন:‌ অজানা জ্বরে স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু 

আকর্ষণীয় খবর