আজকালের প্রতিবেদন- বাংলায় উৎসব নিয়ে কখনও কোনও ভেদাভেদ হয় না। এখানে উৎসব সকলের। দুর্গাপুজো জাতীয় উৎসব। সোমবার নজরুল মঞ্চে জাগো বাংলার উৎসব সংখ্যার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বস্তুত, সেই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দুর্গোৎসবের মূল সুর বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, উৎসবে ধর্মের কোনও ভেদাভেদ বা বিভাজন তিনি চান না। 
এদিন মমতা চেতলা অগ্রণী মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমার চোখ আঁকেন। তাঁর পায়ে পায়েই শুরু হয়ে যায় উৎসব। বাগবাজার সর্বজনীন, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, যোধপুর পার্কের ৯৫ পল্লী ও কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের প্রতিমার উদ্বোধনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি মণ্ডপেই মমতাকে দেখার জন্য উপচে পড়ে ভিড়। বস্তুত, দেবীর বোধন এখনও এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু মমতার উদ্বোধনে মহালয়াতেই ‘বোধন’ হয়ে গেল দুর্গোৎসবের। প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম বাগবাজারের পুজো উদ্বোধনে গেলেন মমতা। এই পুজো এবার ১০০ বছরে পড়ল। বাগবাজারে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে মমতা বলেন, ‘‌দেবীকে আহ্বান জানিয়ে গেলাম।’‌ 
বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা উদ্বোধনের সঙ্গে মমতা চণ্ডীপাঠও করেছেন। প্রতিটি মণ্ডপে গিয়েই জানিয়েছেন, উৎসবের সময় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। শান্তিতে যাতে পুজো কাটে, তা দেখার জন্য দলের নেতাদের এলাকায় থাকতে হবে‌। তাঁর কথায়, ‘‌উৎসবের সময় আনন্দের পাশাপাশি মানুষের পাশেও থাকতে হবে। বাংলার এই উৎসবে বিদেশ থেকেও বহু দর্শনার্থী আসেন। উৎসবের সময় আমাদের পুলিস–প্রশাসন খুব ভাল কাজ করে। গত কয়েকবছর ধরে শান্তিতেই পুজো হয়েছে। আমি মনে করি, এবারও শান্তিতেই পুজো হবে। তবু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’‌
‘জাগো বাংলা’র অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, ‘‌আমাদের হাতে এই কাগজটি আছে। একটা সময়ে আমি আর পার্থ’দা (চ্যাটার্জি) প্রচুর লিখতাম। কিন্তু আমরা কখনও কুৎসার রাজনীতি নিয়ে লিখি না। হাতে মিডিয়া আছে বলেই কাউকে দুঃখ দিই না।’‌ বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা এবং আলোকসজ্জা দেখে মমতা ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাগবাজারে ছিলেন সুদীপ ব্যানার্জি, শশী পাঁজা, সাধন পাণ্ডে প্রমুখ। নাকতলায় পার্থ চ্যাটার্জি, চেতলায় ফিরহাদ হাকিম, যোধপুর পার্কে মেয়র পারিষদ রতন দে।‌ সোমবার  মহালয়ার দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় দেখে খুশি মমতা বলেন, ‌‘‌উৎসব শুরু হয়ে গেল!’

 

 

চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার চক্ষুদান করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার। মহালয়ার সন্ধ্যায়। ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top