তাপস গঙ্গোপাধ্যায়- কলকাতা ও শহরতলিতে টাকার অঙ্কে এখন দু’‌‌ধরনের দুর্গাপুজো হয়— পুজো নামী হলেও এবং খোদ শহরেও যদি হয় তাহলেও সে পুজোর আয়–‌ব্যয় বিশ থেকে পঁচিশ লাখেই থাকে সীমাবদ্ধ। বড় পুজোর বাজেট বেশ চড়া। 
যেমন ধরুন সঙ্ঘশ্রী। হাজরা মোড়ের কাছে একদা উজ্জ্বলা সিনেমার (‌সেই হলটি এখন কেয়া শেঠের স্টুডিও নবরূপে)‌ গলি বলে পরিচিত রাস্তায় অমৃত ব্যানার্জি স্ট্রিটের একটি মুখ বন্ধ করে হত এই পুজো। আজও তাই। গত শতাব্দীর ৫০, ৬০ এবং ৭০ দশকে দক্ষিণ কলকাতার পুজোর প্রসঙ্গ উঠলেই লোকে তুলত সঙ্ঘশ্রীর নাম। ছোট্ট সরু রাস্তা জুড়ে মণ্ডপে দত্ত ইলেকট্রিকের আলোর খেলা। সঙ্ঘশ্রী তখন দক্ষিণ কলকাতার সবচেয়ে বড় পুজো। এরপর ২৩ পল্লী, সঙ্ঘমিত্র, বকুলবাগানের নাম শোনা যেত। ১৯৪৫–‌এ সঙ্ঘশ্রীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মলয় ব্যানার্জি, কন্ট্রাক্টরি করতেন। উনি মারা যান ১৯৯১–‌৯২ নাগাদ। অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী বা সকলের রানাদা মানুষটি ১৯৭১–‌এ সঙ্ঘশ্রীর পুজোয় জয়েন করেন। ১৯৮৬–‌তে রানাদা প্রথম সম্পাদক। উনি শুনেছেন, ১৯৪৫ সালে পুজোয় খরচ হয়েছিল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর গত ৩ বছর যখন রানাদাই ছিলেন সম্পাদক। ২০১৮–‌তে বাজেট ছিল ১৫ লাখ, খরচ হয়েছিল ১৩ লাখ। ঠাকুর গড়েন জিতেন পাল। রানাদা যোগমায়া দেবী কলেজে কাজ করতেন। হেসে বললেন, রিটায়ার করেছি আমি, এখন সিনিয়র সিটিজেন। এ বছরও সম্পাদক হওয়ার কথা ছিল। ছেড়ে দিলাম।’‌
উত্তর কলকাতায় বিবেকানন্দ রোড ধরে গিরিশ পার্কে যাওয়ার পথে স্বামীজির বাস্তুভিটে। রামকৃষ্ণ মিশন সদ্য সেটিকে নব কলেবর দিয়েছে। তারই পাশে সিমলা ব্যায়াম সমিতি। ১৯২৬ থেকে পুজোও যেমন করছে তেমনি যোগ–‌প্রাণায়াম, মাল্টি জিম–‌এর পাশাপাশি ওই মাঠে ভাল ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পও হয়। জিমন্যাস্টিক্স ও ভলিবল বন্ধ হয়ে গেছে। গতবার পুজোর বাজেট ছিল ২০ লাখ, বললেন পুজো কমিটির যুগ্ম সচিব রবীন্দ্রনাথ দাঁ। ঠাকুর তৈরি হয় মাঠের মাঝে খোলা ঠাকুর দালানে। রবীন্দ্রবাবুর কথায়, গতবার বাজেট ছিল বিশ লাখ। একদা নেতাজি এই পুজোয় জড়িত ছিলেন। ১৯৩১ সালে সুভাষচন্দ্র প্রতিমার উদ্বোধন করেন। ওঁদের সদস্য আজ ৪৫০।
কসবা রাজডাঙ্গায় নব উদয় সঙ্ঘের সর্বময় কর্তা কলকাতা পুরসভার ১২ নং বরোর চেয়ারম্যান সুশান্তকুমার ঘোষ। তাঁর বাবা সমীর ঘোষ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলে লক্ষ্মীকান্ত বসুর সঙ্গে একসঙ্গে এনএলসিসি করতেন। ২০১০–এ সুশান্তবাবু যখন সড়ক বিভাগের মেয়র পারিষদ তখনই তাঁর ঘাড়ে চড়ল পুজোর সব ভার। ৫০ বছর বয়সী সুশান্ত, দুটি কন্যার পিতা। 
বালিগঞ্জ পূর্বপল্লীর প্রতিষ্ঠা ১৯৪৫–‌এ। বালিগঞ্জ স্টেশনের কাছে ট্রামডিপোর আগে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের গা ঘেঁষে পুজো। ৭৫ বছর পরে ২০১৮ সালে এর মোট আয় হয় ৫ লাখ ১১ হাজার ১২১ টাকা। কোষাধ্যক্ষ শ্যামল চ্যাটার্জি বললেন, প্রধান খরচ প্যান্ডেল ২ লাখ ২৫, লাইট ৭৫,২৫০ টাকা এবং দুর্গা প্রতিমা ৪৫২০১।   ‌‌‌‌‌‌‌‌

 

পুজো উদ্যোক্তাদের কর দেওয়া নিয়ে আয়করের নোটিসের প্রতিবাদে বঙ্গজননী বাহিনীর অবস্থানে শশী পাঁজা, নয়না ব্যানার্জি,  চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম প্রমুখ। সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে, মঙ্গলবার। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top