‌আজকালের প্রতিবেদন: কলকাতা থেকে সম্প্রতি সবচেয়ে বড় হেরোইন চক্র ধরল পুলিশ। জালে পড়ল দুই বড় চাঁই। মোট ১২৫ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। ৩টি বস্তায় তা রাখা ছিল। যাদের ধরা হয়েছে, তাদের একজনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বাহারাইচে। নাম জুবের। অন্য জনের নাম মৌলানা ফয়াজুদ্দিন। বাড়ি মণিপুরে। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের অ্যান্টি টেররিস্ট টিম বহুদিন ধরেই এই দু’‌জনের সন্ধানে ছিল। টালা থানার  পাইকপাড়া থেকে সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ দুজনকে ধরা হয়। ২৭ কেজি মতো উদ্ধার হয়েছে হেরোইন ও অন্য একটি মাদক।
আন্তর্জাতিক বাজারে ১০০ কোটি টাকার ওপরে এর মূল্য। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সবচেয়ে বড় মাপের হেরোইন চক্র ধরল পুলিশ। উত্তর–‌পূর্ব ভারত বা পশ্চিমবঙ্গে এর আগে এত পরিমাণ হেরোইন ধরা পড়েনি। গত বছর ও এ‌বছরের চলতি মাস মিলিয়ে ৭টি হেরোইন উদ্ধারের ঘটনা ঘটল। মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতবার ধরা পড়েছিল ২৮ কোটি টাকার হেরোইন। এবছরের শুরুতেই তা ১২৫ কোটি ছাড়িয়ে গেল। উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর—‌ দূরত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কোনও মিল নেই। পুলিশ মনে করছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক চক্র।
তদন্তে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দার থেকে ২৫ কেজি এবং মণিপুরের বাসিন্দার থেকে ৫ কেজি হেরোইন পাওয়া গেছে। পুলিশ মনে করছে, এগুলি এক জায়গায় জড়ো করে আরও অন্য ধরনের নেশার দ্রব্য তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল এদের। বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বলা যায় পুলিশ একেবারে ভাঁড়ারে হানা দিল।  জুবের হকারি করে সংসার চালায়। ফয়াজুদ্দিন খেতমজুর। এরা আদতে হেরোইনের বড় ব্যবসায়ীর থেকে হেরোইন কিনে মজুত করত। মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের বিচারক শঙ্করমণি ত্রিপাঠীর এজলাসে এদের তোলা হয়। মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি তমালকান্তি মুখার্জি বলেন,‘‌ এর পেছনে বড় চক্র আছে। আন্তর্জাতিক চক্রও থাকতে পারে। অনেক লোক জড়িত। সমাজকে বাঁচাতে অপরাধ শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আরও জেরা প্রয়োজন।’‌ আদালত ধৃতদের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top