আজকালের প্রতিবেদন: মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় বাংলার মহিলাদের প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের সদ্য তৈরি হওয়া বঙ্গজননী বাহিনী প্রথম সভা করল হাজরায়। বৃহস্পতিবার এই সভাকে ঘিরে হাজরা উত্তাল হয়ে ওঠে। বঙ্গজননী বাহিনীর এটাই প্রথম কর্মসূচি। সভার মঞ্চ থেকে তথাগত রায়কে ধিক্কার জানানো হয়েছে। টুইটে সম্প্রতি তথাগত রায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘‌বাঙালি মেয়েরা মুম্বইতে বার ড্যান্স করতে পারলে হিন্দি শিখতে আপত্তি কেন?‌’‌ টুইটের পরেই রাজ্য থেকে প্রবল আপত্তি ওঠে।
এদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বঙ্গজননী বাহিনী হাজরায় অবস্থান করে। বঙ্গজননী বাহিনীর চেয়ারম্যান হয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তিনি ছাড়া মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শশী পাঁজা ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার বহু মহিলা তৃণমূল কর্মী এই সভায় আসেন। কাকলি, শশী, চন্দ্রিমা— এঁরা সকলেই বলেন, ‌‘‌মেঘালয়ের রাজ্যপাল বাঙালি মহিলাদের অসম্মান করেছেন।’‌ মঞ্চের চারিদিকে তথাগতবাবুর ছবি লাগিয়ে লেখা হয়, ছিঃ। বক্তারা বলেন, ‘‌বঙ্গজননী বাহিনী বিজেপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছে। ভোটের পর বিভিন্ন জেলায় বিজেপি কর্মীরা অশান্তি করছে। পার্টি অফিস দখল করছে। খুন করছে। তাণ্ডব চালাচ্ছে। বাংলার মহিলারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তাই আমাদের নেত্রী বঙ্গজননী বাহিনী তৈরি করেছেন। বঙ্গজননী বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক হয়েছে। লাল–‌হলুদ পাড়ের সাদা শাড়ি। কাকলি, শশী পাঁজা এই নতুন শাড়ি পরে এসেছিলেন। মহিলারা শঙ্খধ্বনি দেন। শাঁখ বাজান কাকলি ও শশী। ইতিমধ্যে মমতা জয়হিন্দ বাহিনী তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌জয় শ্রীরাম বললে পাল্টা জয়হিন্দ, জয় হো বলতে হবে।’‌ আজ শ্যামবাজারে বঙ্গজননী বাহিনীর সভা রয়েছে। সেখানে থাকবেন শশী পাঁজা, স্মিতা বক্সি, মালা সাহা প্রমুখ। চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি জানান, ‌‘‌হাজরায় বঙ্গজননীর প্রথম সভা খুব ভাল হয়েছে। আমি ফেসবুকে দেখেছি। আমার আশা, আগামী দিনে আরও সুন্দর হবে। আগামী দিনে আমিও বঙ্গজননী বাহিনীর কর্মসূচিতে শামিল হব।’‌ ‌‌‌
বঙ্গজননী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি ব্লকে এই বাহিনী তৈরি করা হবে। বিজেপি যেখানে সভা করবে, ঠিক সেখানেই পাল্টা সভা করবে এই বাহিনী। গোলমাল হলে ছুটে যাবে মহিলাকর্মীরা। প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। নৈহাটিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দেন, ‘‌ঘরে যে সব জিনিস আছে, সে সব নিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। হাতে রাখতে হবে হাতা–‌খুন্তি। কোনও উত্তেজনা করা চলবে না। প্ররোচনায় পা দেবেন না। সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বঙ্গজননী বাহিনী।
ইতিমধ্যে জয়হিন্দ বাহিনী বুধবার বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রথম কর্মসূচি নিয়েছে। জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি হয়েছেন কার্তিক ব্যানার্জি, চেয়ারম্যান ব্রাত্য বসু, ভাইস চেয়ারম্যান ইন্দ্রনীল সেন ও আহ্বায়ক সুব্রত ব্যানার্জি (‌গণেশ)‌। কার্তিক জানিয়েছেন, ‘‌প্রতিটি জেলায় এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। ক্রীড়া বিভাগটি দেখবেন বাবুন ব্যানার্জি। সংস্কৃতি বিভাগটি দেখবেন ব্রাত্য বসু ও ইন্দ্রনীল সেন।’‌ 

তৃণমূলের তৈরি ‘বঙ্গজননী বাহিনী’–এর প্রথম সভায় দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও শশী পঁাজা, দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও প্রতিমা মণ্ডল। হাজরা মোড়ে, বৃহস্পতিবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top