আজকালের প্রতিবেদন: কিশোরের গলায় গেঁথে যাওয়া কাঁচি সফলভাবে অস্ত্রোপচার করে বের করলেন এসএসকেএমের কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি (‌সিটিভিএস)‌ চিকিৎসকরা। টানা তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারের পর জীবনরক্ষা হয় কিশোরের। ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা ১৬ বছরের আজিজুল লস্কর ফলতার একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। পরিবারের দাবি, সপ্তাহখানেক আগে কারখানায় বচসা বাধে অন্য কর্মীদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে একজন কর্মী ওই কিশোরকে লক্ষ্য করে কাঁচি ছোঁড়ে। কিশোরের গলার বাঁদিকে ওই কাঁচি গেঁথে যায়। শিরা, ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। তারপর ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে কলকাতায় রেফার করা হয়। এখানে প্রথমে এনআরএস নিয়ে গেলে সেখান থেকে এসএসকেএম। এখানে সিটিভিএস বিভাগে ভর্তি নেওয়া হয় কিশোরকে। বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ শুভেন্দু মহাপাত্রের নেতৃত্বে ৩০ জুলাই টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার। ডাঃ মহাপাত্র জানিয়েছেন, ‘গলার শিরদাঁড়ার কাছে কাঁচি গেঁথে ছিল। ফলে, গলার কাছ থেকে বাঁ হাতের যে নার্ভ তৈরি হয়েছে সেগুলির ক্ষতি হয়। ‌গলায় কেটে যাওয়া ধমনী, পেশি, শিরা অস্ত্রোপচারে ঠিক করি। রোগীর মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ফলে বাঁচার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। কারণ অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর হিমোগ্লোবিন পাঁচে নেমে এসেছিল। রোগী এখন বিপন্মুক্ত। আমাদের বিভাগ থেকে ওর ছুটি হয়ে গেছে। এখন নিউরোলজিস্ট ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের নেতৃত্বে ওর চিকিৎসা চলবে। বাঁ হাতের স্নায়ুর কিছু সমস্যা হচ্ছে। তা ধীরে ধীরে ঠিক হবে।’‌ হার্ট থেকে মুখমণ্ডল হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনী ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি এবং জুগুলার ভেইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। অল্পের জন্য এগুলোর ক্ষতি হয়নি।  চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন ডাঃ সৌম্যদর্শন সান্যাল, ডাঃ রোহিত রাঠি, ডাঃ আসহর জোসেফ, ডাঃ পল্লব মিশ্র এবং ডাঃ নীতা বসাক।   ‌

ছবি: প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top