দীপঙ্কর নন্দী: ২০১১–‌য় ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কিছুদিনের মধ্যেই বলেছিলেন, ‘‌বিনা চিকিৎসায় কেউ যেন হাসপাতাল থেকে ফিরে না যায়।’‌ এই ৮ বছরে মুখ্যমন্ত্রী প্রায় সব জেলাতেই সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল করেন, সরকারি হাসপাতালের চেহারা বদলে দেন। বেড বাড়ানো হয়, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানও করা হয়। বহু মানুষ ন্যায্য মূল্যের ওষুধ কিনছেন। সম্প্রতি ‘‌দিদিকে বলো’‌ ও ‘‌আমার গর্ব মমতা’‌ এই জনসংযোগ কর্মসূচি চালু হয়েছে। ‘‌দিদিকে বলো’‌–‌তে ফোন করে অনেক রোগী উপকার পেয়েছেন। ক্যান্সার ও টিবি রোগী ভাল হচ্ছেন। সম্প্রতি ১২ বছরের রুদ্রজিৎ হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রুদ্রজিতের বাবা–‌মা প্রথমে ফোন করেন। কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ লক্ষ টাকার ইঞ্জেকশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। বেঁচে গেল ১২ বছরের রুদ্রজিৎ। মধ্যবিত্ত বাবা–‌মা মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পেশেন্ট কল ‘‌দিদিকে বলো’‌ ফর হসপিটাল হেল্প। এটাও দেওয়া হয়েছে। 
দ্বিতীয় দফায় ‘‌দিদিকে বলো’‌ জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে জেলায় গিয়ে জনতার সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। হাওড়ার বস্তিতে যাওযার পর বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফোন করে নিজেদের অসুখের কথা জানাচ্ছেন। প্রায় প্রত্যেকেই উপকার পাচ্ছেন। ওবিসি সার্টিফিকেট পাওয়া নিয়ে অনেককেই হয়রান হতে হয়েছিল। এখন তারা হাতে হাতে সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘‌কেউ যেন সার্টিফিকেট নিতে এসে ঘুরে না যান।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় কাজ হচ্ছে। জেলার সব বিধায়ক জনসংযোগ কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছেন। দ্বিতীয় দফায় তাঁরা নিজেদের এলাকায় ফের ৫ জন বিশিষ্টর সঙ্গে দেখা করছেন। কর্মীদের বাড়িতে খাওয়া সেরে রাত্রিবাস করছেন। অনেককে তৃতীয় দফার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বলা হয়েছে, এলাকায় ৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে অতি অবশ্যই দেখা করতে হবে। এলাকায় কমিউনিটি হল থাকলে সভা ডাকতে হবে। কৃষি ঋণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর ব্যাপক জোর দেওয়ার ফলে দক্ষিণ দিনাজপুরে মহম্মদ জার্গিস আলমগিরের মতো লক্ষ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। বারবারই বলা হচ্ছে, নিজেদের এলাকায় সমস্যার কথা জানান। হয় সরাসরি বিধায়ককে বলুন, নয়তো ফোন করুন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top