আজকালের প্রতিবেদন: দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় দেখা গেল বিধায়ক দেবশ্রী রায়কে। বুধবার তিনি প্রিভিলেজ কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। সারাক্ষণই বৈঠকে ছিলেন। এরপর তিনি মহিলা বিধায়কদের ঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ নয়না ব্যানার্জি, মালা সাহা ও জ্যোৎস্না মান্ডির সঙ্গে কথা বলেন। নয়নার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বেশি। তাঁর কাছে দেবশ্রী বৌবাজারের ঘটনা জানতে চান। ঠিক এই মুহূর্তে তিনি কোন দলে আছেন তা নিয়ে নয়নার সঙ্গে দেবশ্রীর কোনও কথা হয়নি। সামান্য কিছু খাবার খেয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে দেবশ্রী বিধানসভা লনে রাখা তাঁর নিজের গাড়িতে উঠে পড়েন। প্রিভিলেজ কমিটির চেয়ারম্যান ও ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদা বলেন, ‘‌তিনি মিটিংয়ে এসেছিলেন, তবে কোনও কথা বলেননি। মিটিংয়ে ঢোকার আগে তিনি উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষরও করেন।’‌ নয়না বলেন, ‘‌দেবশ্রী আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। ওঁর সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছি। বিধানসভায় আমরা এক জায়গাতে বসি। রাজনীতি নিয়ে কোনও কথা হয়নি।’‌ এদিন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌দেরিতে হলেও তাঁর বোধোদয় হয়েছে। এতদিন কেন আত্মগোপন করেছিলেন, তা বলতে পারব না।’‌
‌বিধানসভার দিকে পা বাড়ানো তো দূরের কথা, ১৪ আগস্টের পর থেকে জনসমক্ষেই আসতে চাইছিলেন না দেবশ্রী। কিন্তু বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়া যে আপাতত সম্ভব হচ্ছে না, তা এখন বেশ খানিকটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়কের কাছে। তৃণমূলেই থেকে যাওয়ার চেষ্টা যে করছেন, সে ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট।
দেবশ্রী রায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি কমিটির সদস্য— তথ্য ও সংস্কৃতি এবং স্বাধিকার। শুক্রবার অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে বিধানসভার অধিবেশন। শুরু হয়েছিল ২৬ আগস্ট। সদ্যসমাপ্ত এই অধিবেশনে এক দিনের জন্যও বিধানসভায় দেখা যায়নি রায়দিঘির বিধায়ককে। ১৪ আগস্ট নয়াদিল্লিতে বিজেপি–‌র সর্বভারতীয় সদর দপ্তরে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বিজেপি–‌তে যোগ দিতেই সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি ঠিকই, কিন্তু বিজেপি–‌র সদর দপ্তরে হাজির হয়ে খবরের শিরোনামে আসার পরে বাংলায় ফিরে বিধানসভায় হাজির হয়ে আবার তৃণমূলের বেঞ্চে বসা দেবশ্রীর পক্ষে কতটা অস্বস্তিকর হতে পারত, তা বুঝতে রাজনৈতিক শিবিরের অসুবিধা হয়নি। তাই বিধানসভায় তাঁর অনুপস্থিতিকে স্বাভাবিকই মনে করছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
১৪ আগস্ট ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে যে বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা দেবশ্রী রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন, এমন কিন্তু নয়। রাজ্য বিজেপি–‌র সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়িতে হাজির হয়েছেন। সেখানে দেখা না পেয়ে পরে অন্য কোথাও দেখা করেছেন। কখনও আবার বিজেপি–‌র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কখনও শোনা গিয়েছে যে, দিলীপ ঘোষের কাছে তৃণমূলেরই কোনও মহিলা সাংসদ দরবার করেছেন দেবশ্রীকে দলে নেওয়ার জন্য।
দেবশ্রীর সেই সব চেষ্টাই কিন্তু বিফল হয়ে যায়। রাজ্য বিজেপি–‌র সভাপতি দিলীপ ঘোষও জানিয়ে দেন যে, দেবশ্রী রায়কে নেওয়ার বিষয়ে দলের সবাই এখনও একমত নন। দিলীপের সেই বিবৃতির কয়েকদিন পরেই দেবশ্রী রায় জনসমক্ষে এলেন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top