আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ পক্ককেশ, বয়সের ভারে ন্যুব্জ নেতাদের সরিয়ে কলকাতা সিপিএম–এর নেতৃত্বে বসলেন তরুণ নেতারা। তরুণ নেতাদের প্রবল প্রতিরোধের সামনে টিকতে পারলেন না বুড়ো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা। এমনকী বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রের হস্তক্ষেপেও কাজ হল না। ৪৮ ঘণ্টার তাত্ত্বিক আলোচনার পর চলে প্রক্রিয়া গড়াল ভোটাভুটিতে। রবিবার সারাদিন চলল বৈঠক। শুধু সারাদিন, সারা রাতও বলা চলে। সোমবার ভোর পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় ভোটাভুটিতে। সেখানেই কার্যত দু’‌ভাগে ভাগ হয়ে যায় কলকাতা জেলা কমিটি।  বয়সের কারণে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয় একজডন প্রবীণ নেতাকে। এমনকী জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন চ্যাটার্জিকেও রেয়াত করা হয়নি। বাদ পড়েছেন শ্রমিক নেতা রাজদেও গোয়ালা থেকে শুরু করে দীলিপ সেনের মত প্রাজ্ঞ নেতা। নতুন জেলা সম্পাদক হয়েছেন কল্লোল মজুমদার।  যদিও কল্লোলের এই পদে নির্বাচিত হওয়া সহজ ছিল না। এই পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মানব মুখার্জি। কিন্তু কল্লোলের পক্ষেই ভোট দেন নবীন প্রজন্মের নেতারা। মানব মুখার্জির হারের নেপথ্যে অন্য একটি কারণ কাজ করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, কলকাতা জেলা কমিটির এই রেনেসাঁ ঘটেছে সম্ভবত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তের কারণেই। বাম নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি অনেক বাম নেতাই। নীতিগত বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। আর মানব মুখার্জি ছিলেন এই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে। সেই কারণটাই বুমেরাং হয়ে ফিরেছে।  
জেলা কমিটিতে যাঁদের নেওয়া হয়েছে তাঁদের অধিকাংশেরই বয়স ৪০ বছর বা তার কম। চল্লিশের উপরে কোনও নেতারই ঠাঁই হয়নি কমিটিতে। ডিওয়াইএফআইয়ের কলকাতা জেলা সেক্রেটারি হয়েছেন ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী, জেলা সভাপতি হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ ঘোষ। কলতান দাশগুপ্ত হয়েছেন জেলা যুগ্ম সম্পাদক রাজেন্দ্র প্রসাদ আর এসএফআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব পেয়েছেন সৌম্যজিৎ রজক।  

 

 

  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top