ভোলানাথ ঘড়ই- ‌সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির নতুন সম্পাদক হলেন কল্লোল মজুমদার। এর আগে ১৮টি জেলার সম্মেলন শেষ হয়েছে। কোথাও ভোট করতে হয়নি। কিন্তু কলকাতা জেলা কমিটি গড়তেই রবিবার ভোট করতে হল। ভোট না হলেও কল্লোল মজুমদারই যে সম্পাদক হতেন, তা বলাই বাহুল্য। কারণ রবিবার সম্মেলন শেষে ৬০ জনের অফিসিয়াল প্যানেল পেশ করা হয়। গতবার ৭০ জনের কমিটি ছিল। এবার সেখান থেকে ১৮ জনকে বাদ দিয়ে নতুন ৬০ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিদায়ী জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন চ্যাটার্জি, দিলীপ সেন–‌সহ অধিকাংশ প্রবীণকে জেলা কমিটির বাইরে রাখা হয়। কারণ রাজ্য কমিটি চায়, ৭২ বছরের ওপরে কাউকে জেলা কমিটির সদস্য করা হবে না। এ পর্যন্ত মেনে নিলে ৫৪ বছর বয়সী কল্লোলই সম্পাদক হতেন। কিন্তু হঠৎ তাঁরই গোষ্ঠী বলে পরিচিতরা আরও ১৫ জনের নাম জেলা কমিটির সদস্যের জন্য পেশ করেন। সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম, দীপক দাশগুপ্ত, রবীন দেব, মৃদুল দে, সুজন চক্রবর্তী প্রমুখ। তাঁদের অনুরোধেও ভোট এড়ানো যায়নি। রাতারাতি ব্যালট ছাপিয়ে ভোট হয়। রাত ১টা পর্যন্ত চলে ভোট। সেখানে দেখা যায়, অফিসিয়াল প্যানেলে উত্থাপিত ৬০ জন সদস্যই জয়ী হয়েছেন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন কল্লোল মজুমদার। তাহলে কেন এই অকারণ ভোটাভুটি?‌ আসলে কলকাতা জেলা এখন রণকৌশলের লাইন নিয়ে দু’‌ভাগ। কংগ্রেস–‌সহ ডানপন্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি–‌কে আটকাতে চান একদল। অন্যদল কংগ্রেসের মতো দলকে অচ্ছুত করে রেখে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে লড়াই চান। কলকাতা জেলার সম্মেলনে এই ভোটাভুটি নিয়ে সদস্য–‌সমর্থকদের মধ্যে দু’‌রকম মত পাওয়া গেছে। একদল মনে করেন, ভোট তো হতেই পারে। এতে প্রমাণ হয়, দুঃসময়েও পার্টিতে নেতৃত্ব দেওয়ার উৎসাহ বাড়ছে। এটা পার্টির ভাল দিক। অন্য আর একদল নেতার মতে, যে জেলা ১০ থেকে ১২ শতাংশের বেশি ভোট জোগাড় করতে পারে না, তারা সারারাত ধরে ভোট করে নিজেদের মধ্যে। এই ভোট তো সম্মেলনকে হাতিয়ার করে নেহাতই গোষ্ঠী–‌‌ক্ষমতা দেখানোর লড়াই। উল্লেখ্য, কলকাতা জেলা সিপিএম এখন জোটপন্থী আর না–‌‌জোটপন্থীতে বিভক্ত। কল্লোল মজুমদাররা দলে না–‌‌জোটপন্থী বলেই পরিচিত। এর পর রাতেই বসে নতুন জেলা কমিটির বৈঠক। সেখানে কল্লোল মজুমদারের নাম জেলা সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হলে অনাদি সাহু পাল্টা মানব মুখার্জির নাম প্রস্তাব করেন। ফলে ফের ভোটাভুটি করতে হয়। ৬০ জনের মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিলেন। আর একজন ভোটদানে বিরত থাকেন। ফলে ৫৮ জন ভোট দিয়েছেন। কল্লোল মজুমদার পেয়েছেন ৩২টি ভোট আর মানব মুখার্জি পেয়েছেন ২৬টি ভোট। এই ভোটাভুটি করতে গিয়ে রবিবার সম্মেলন শেষ হয় প্রায় ভোররাতে। নতুন জেলা কমিটিতে স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে নিরঞ্জন চ্যাটার্জি, আনোয়ারা মির্জা, দিলীপ সেন, দেবপ্রসাদ গুহ, দেবব্রত বিন্দু ও খোকন মজুমদারকে। বয়স ও অসুস্থতার কারণে এবার জেলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রঘুনাথ কুশারী, কুমকুম চক্রবর্তী, পল্টু রায়চৌধুরি, বনবাণী ভট্টাচার্য, অসিতাঙ্গ গাঙ্গুলি, কানাই বাগদের মতো ১৮ জনকে।‌

কল্লোল মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top