আজকালের প্রতিবেদন

 

 

কন্টেনমেন্ট জোনগুলির লকডাউনে কঠোর ব্যবস্থা নিল পুলিশ। শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা এবং সহায়তা করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর থেকেই লকডাউন শুরু হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, ব্যারাকপুর, বারাসত, হুগলির বিভিন্ন জায়গায়। শুক্রবার সকাল থেকেই মাইকিং করে, হুটার বাজিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বাসিন্দাদের। প্রয়োজন ছাড়া কন্টেনমেন্ট জোনের ভেতরে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ। মাস্ক না পরে বেরোলেই পুলিশ জিজ্ঞাসা করছে। অনেক জায়গায় পুলিশ মাস্ক পরিয়ে দিয়েছে। বাড়িপাঠিয়ে দিয়েছে অনেককে। বস্তুত, কন্টেনমেন্ট জোনে সার্বিক লকডাউন করতে পুলিশ কঠোর ও তৎপর। কোনও ধরনের নিয়ম ভাঙা বরদাস্ত করা হচ্ছে না।
শুক্রবার কলকাতা পুলিশের নগরপাল অনুজ শর্মা কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে নির্দেশিকা ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কিনা তা ঘুরে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত নগরপালরা ও বিভাগীয় ডিসিরা। নগরপাল যান তেলেঙ্গাবাগান, বটতলা, বড়বাজার, গিরিশ পার্ক–‌সহ বিভিন্ন এলাকায়। মানুষের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা তার খোঁজ নেন। কলকাতার বেশ কয়েকটি থানা এলাকায় পুর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে। কোনও প্রয়োজন হলে সেখানে জানাতে বলা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলের পর থেকে কলকাতার ২৫ কন্টেনমেন্ট জোনে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিছু কিছু জায়গায় ট্রাফিক রুটও ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যারাকপুরে ৩৮ কন্টেনমেন্ট জোনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের কমিশনার মনোজ বর্মা। খড়দার নতুন বাজার, রহড়া বাজার, সোদপুর বাজার, কামারহাটি, বরানগর–‌সহ বিভিন্ন জায়গায় যান। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মাস্ক না–‌পরে বের হলেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বারাসতের কন্টেনমেন্ট এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি। মানুষের অসুবিধার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুর কর্মীরাও সাহায্য করছেন। হাওড়া শহরের কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করল পুলিশ। সেই সঙ্গে প্রচার ও কঠোর তৎপরতায় কোভিড–‌১৯ সোলজার এবং লকডাউন সোলজাররা কাজে নেমে পড়েছেন। পুর এলাকার ১৭ কন্টেনমেন্ট জোনে শুরু হয়েছে পরিষেবা দেওয়া। লকডাউন কার্যকর হচ্ছে কিনা ঘুরে দেখেন হাওড়া কমিশনারেটের কমিশনার কুণাল আগরওয়াল। ব্যারিকেড টপকে বেরোবার চেষ্টা করলেই পুলিশ বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। হুগলির ২১ কন্টেনমেন্ট জোনে বাঁশের ব্যারিকেড করা হয়েছে, স্যানিটাইজও করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার হুমায়ুন কবির। রিষড়া পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে এনএস রোড ও হেস্টিংস লাইনে কড়া নজরদারি চলছে। 

তেলেঙ্গাবাগানে কনটেনমেন্ট জোনে পরিদর্শনে নগরপাল অনুজ শর্মা। শুক্রবার। ছবি: তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top