‌আজকালের প্রতিবেদন: ভয়াবহ আমফান ঝড়ের পর সোমবার কলকাতার পরিস্থিতি আরও অনেকটাই স্বাভাবিক হল। সমাধানের জন্য রাজ্য প্রশাসন, পুরসভা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ এসে গেছে। জল এসেছে অনেক জায়গাতেই। গাছ কাটার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। আগামী দু’‌একদিনের মধ্যেই ঝড়ে পড়ে থাকা মরা গাছের জঞ্জাল সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা যাবে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে নেট সংযোগ এবং মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার।
রবিবারের মতো সোমবারও সকাল থেকেই উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলেছে। ঝড়ের ধাক্কায় গাছের শেকড় উপড়ে যাওয়ায় বহু জায়গায় জলের পাইপ ফেটে গেছে। সেগুলিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সারানোর কাজ করছে পুরসভা। কেব্‌লের তার, ফোন, বিদ্যুতের তার এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে, আলাদা করে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় সব জায়গাতেই বিদ্যুতের খুঁটি পড়ার সময়ই ওই খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা কেবল ও নেটের লাইনের তার নিয়ে ছিঁড়ে পড়েছে। সে–‌কারণে সমস্যা বেশি হচ্ছে। গাছ কাটা হয়ে গেলেও কেব্‌ল, নেট বা ফোনের তারের জংশন বক্স খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠছে। কিন্তু বিভিন্ন এজেন্সি দিনরাত কাজ করছে। এখনও কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। সিইএসসি দাবি করেছে, কলকাতায় ৯৫ শতাংশ জায়গাতেই বিদ্যুৎ চলে এসেছে। 
নেট, মোবাইল পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ। কেব্‌ল ছিঁড়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা অনেক জায়গাতেই টিভি দেখতে পারছেন না। যোগাযোগও করা যাচ্ছে না কারও সঙ্গেই। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স বা ডাক্তারকে জানানোর বিষয়টিও খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাঁরা ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কাজ করছেন, নেট না থাকার কারণে তাঁরাও পড়েছেন বিপাকে। অনলাইনে পড়াশোনা চলছে এখন। পড়ুয়াদেরও অবস্থা তথৈবচ। তথ্য বিনিময় করা যাচ্ছে না বহু ক্ষেত্রেই। যদিও বিভিন্ন সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, পরিষেবা সচল রাখতে দিনরাত কাজ করা হচ্ছে।
রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য পুরসভার পাশাপাশি সেনা কর্মীরাও পরিশ্রম করছেন। পুরসভা ছাড়াও কলকাতার হাল ফেরাতে নেমেছেন রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কলকাতা পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা। ওডিশা থেকে দমকলের এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ৫০০ জনের একটি দল এসেছে। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক টুইট করে এ খবর জানিয়েছেন। 
গাছ পরিষ্কার করার কাজে হাত লাগিয়েছেন কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের কর্মীরাও। বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ক্লাব কলকাতাকে আগের চেহারায় ফেরাতে দিনরাত কাজ করছে।
এদিকে উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জল এখনও পৌঁছয়নি। বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় পচা জলের গন্ধ বেরোচ্ছে।
ঝড়ের তাণ্ডবে উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা এবং পূর্ব কলকাতা ছাড়াও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সল্টলেকও। সেখানেও সেনাবাহিনী কাজ করছে। কলকাতার বড় রাস্তাগুলি থেকে গাছ সরানোর কাজ বেশিরভাগটাই শেষ হয়ে গেছে। তবে, পাড়ার ভেতরে কিছু কিছু অংশে গাছ রয়েছে। যে পরিমাণ গাছ পড়েছে, তা একেবারে অভূতপূর্ব ঘটনা।‌ ঝড়ের পর বহু ছোটখাটো ব্যবসায়ীর দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ধীরে ধীরে তাঁরাও অল্প সময়ের জন্য হলেও দোকানপাট খোলার চেষ্টা করছেন। কলকাতার মূল রাস্তাগুলি থেকে গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাটার সঙ্গে সঙ্গেই ডালপালা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top