‌আজকালের প্রতিবেদন: শহরের প্রায় সব রাস্তাই পরিষ্কার করা হয়ে গেছে। দু–‌চারটি জায়গায় এখনও কাজ চলছে। ঝড়ে পড়া গাছের জন্য গাড়ি চলাচল অনেক কমে গিয়েছিল, মঙ্গলবার দেখা গেল কলকাতার রাস্তায় বহু গাড়ি চলাচল করছে। দোকানপাট খুলে, ব্যবসায়ীরা ঝাড়পোছ শুরু করেছেন। কয়েকটি জায়গায় সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও তুলনামূলকভাবে সোমবার রাত থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক। এরই মধ্যে আশার কথা, কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ায় প্রকাশক এবং বিক্রেতাদের একাংশ কিছু কিছু বইয়ের দোকান খুলেছেন। অধিকাংশ জায়গাতেই জল–কাদা রয়েছে। নষ্ট না–হওয়া বইগুলি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা আপ্রাণ।
কিছু কিছু জোনে অবশ্য এখনও নেট পরিষেবা, কেব্‌ল এবং মোবাইলের টাওয়ার পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে ক্ষোভ–বিক্ষোভও চলছে। এ সব ক্ষেত্রে পরিষেবা প্রদানকারীদের অবশ্য সাফাই, যে সমস্ত জায়গায় বিদ্যুৎ এসেছে সেখানে কাজ চলছে। তবে, নেট ও মোবাইল পরিষেবা নিয়ে বহু গ্রাহকের এখনও ক্ষোভ রয়েছে। গত বুধবার ঝড়জলের পর ৭ দিন কেটে গেলেও পানীয় জলের সমস্যা কিছু কিছু এলাকায় রয়েছে। কলকাতায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। অ্যাপ ক্যাবও দেখা গেছে এদিন। মোটের ওপর শহরের এখনকার পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক। শহরে বিদ্যুতের সরবরাহ ৮০ শতাংশ জায়গাতেই পৌঁছে গেছে। রবিবার থেকে পূর্ত দপ্তরের ২৩টি দল কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ এবং সিইএসসি–‌র সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সোমবার দলটি প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, বিধান সরণি, বিডন স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিটে কাজ করে। ময়দানের কাছে অস্থায়ী একটি ডাম্পইয়ার্ডে গাছের জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে তা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
হাওড়ায় অরবিন্দ মার্কেট খুলেছে। বড় বাজারের ক্যানিং স্ট্রিটে বেশ কিছু দোকানে কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ত্রিপলপট্টিতে কেনাবেচাও দেখা গেছে এদিন। কলকাতার কয়েকটি জায়গায় পোশাক বিপণি খুলেছে। হাওড়ার দিকে কিছু কিছু এলাকায় অটো, টোটো চলেছে। বুধবারের ঝড়ের পর গোটা শহরের বিভিন্ন জায়গায় তারের জঞ্জাল, উড়ে আসা টিন, গাছের পাতায় একেবারে ঢেকে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই দৃশ্যের অনেক বদল হয়েছে। লকডাউনের রাস্তায় বিকেলের পর থেকে সেভাবে গাড়িঘোড়া না থাকলেও সকালে ভালই গাড়িঘোড়া চলেছে। দোকান–বাজারে লোকজনও দেখা গেছে অনেক। কলকাতার রাস্তাগুলিতে দু–‌একটি অংশ বাদ দিলে জল কোথাও আটকে নেই। কলেজ স্ট্রিটে প্রকাশক, পুস্তক বিক্রেতারা আবার কোমর বেঁধে নামছেন, যাতে কলেজ স্ট্রিট বইপাড়ার শ্রী ফেরানো যায়। উত্তর কলকাতার হাতিবাগান, শ্যামবাজারে দোকানপাট খুলেছে। খান্না, মানিকতলা থেকে শুরু করে ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিটেও ছবি বদলেছে অনেকটাই।
ধর্মতলায় দেখা গেল দূরপাল্লার বাসের জন্য অনেকেই এসেছেন। তবে, এখনও যাত্রীর ভিড় তেমন নয়। ঝড়ে যাঁরা আটকে পড়েছিলেন তাঁরা ফেরার চেষ্টা করছেন। অন্যান্য জেলা থেকেও যাঁরা কলকাতায় আসার চেষ্টা করছিলেন, তাঁরাও ফিরে এসেছেন। যেটুকু কাজ বিভিন্ন এলাকায় বাকি রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করে ফেলার চেষ্টা করছে প্রশাসন।‌ ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে পাড়ায় পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ সবজি ও মাছ বিক্রেতাদের এ ক’‌দিন সেভাবে দেখা যায়নি। সোমবার থেকেই তাঁদের এলাকায় দেখা গেছে। তবে, বাজারে মাছ–‌সবজির দাম এখন একটু ঊর্ধ্বমুখী। সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সাময়িক বাধা আসার জন্যই এই পরিস্থিতি। ঝড়বৃষ্টিতে ফসলে প্রভাব পড়ায় বাজারে সবজির দাম আগামী দিনে চড়া হতে পারে, তেমন আশঙ্কাও রয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top