আজকালের প্রতিবেদন: শোকে মুহ্যমান শান্তিনগর, সুকান্তনগর। দুর্ঘটনায় পাড়ার দুই তরতাজা যুবকের মৃত্যুতে যেন বাক্‌রুদ্ধ এলাকার মানুষ। তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওই ঘটনা। বন্ধুর দাদার বিয়ে বলে কথা! বিয়েবাড়িতে খালি হাতে ঢুকবে? তা তো হয় না!‌ তাই দুই বন্ধু ঠিক করেছিলেন, নিয়ে যাবেন মিষ্টির হঁাড়ি। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। সঞ্জয় বনু ও বিশ্বজিৎ ভুঁইয়া সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন নিজেদের পরিকল্পনামতো কাজ সেরে ফেলতে। মিষ্টি কিনে ফিরছিলেন সাইকেলে। তখনই চিংড়িঘাটায় বাস পিষে দেয় তাঁদের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’‌জনের। ঘটনার পর কেটে গেছে একদিন। বন্ধু সায়নের দাদা সৌরভের বিয়েবাড়ি থেকে আনন্দ, উচ্ছ্বাস একেবারে উধাও। শনিবার বিয়ের অনুষ্ঠান সারা হয়েছে কোনওরকমে। রবিবার নববধূ এসেছেন শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু আনন্দ উধাও নবদম্পতি, পরিবারের সদস্য, স্থানীয় মানুষের মন থেকে। সৌরভের মতো নববধূ সোমার বাড়ি থেকেও সঞ্জয়, বিশ্বজিতের বাড়ি কয়েক হাত দূরে। সোমার বাপের বাড়ি শান্তিনগর, সুকান্তনগর–‌লাগোয়া নবপল্লী। সবাই সবাইকে চিনতেন। নিত্যদিনই কথা হত, দেখা হত। সৌরভের বৈদ্যুতিক আলোর ছোট ব্যবসা রয়েছে। তাই নিজের বিয়েবাড়ি আলো দিয়ে মুড়ে ফেলতে বাইরের কারও সাহায্য নিতে হয়নি। কোন্‌ আলো কোথায় ব্যবহার করতে হয়, সে–‌ব্যাপারটি তাঁর ভালই জানা ছিল। শুক্রবার রাতে আলো–‌ঝলমল করছিল সুকান্তনগরে তাঁদের বাড়িতে। কে জানত, সে আলো নিভে যাবে একদিন পরেই! রাইস আলো, বড়সড় হ্যালোজেন ঝুলছেই কেবল। বিদ্যুৎ–‌সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আনন্দে মাতোয়ারা হওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন যে সকলে!‌ আজ, সোমবার সুকান্তনগরে ওয়াটারলাইফ ভেড়িতে বৌভাতের অনুষ্ঠান হবে বটে, কিন্তু বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উচ্ছ্বাসের যাবতীয় আয়োজন। ডিজে, তাসা বাজানোর প্রশ্নই নেই। হবে না গান। তোলা থাকল আতশবাজি। বৌভাতে মঞ্চ বেঁধে বসানোর কথা গানের আসর। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সে–সব। চম্পাহাটিতে ফেরত যাচ্ছে বাজি। পাড়ার দুই ছেলেকে হারানোর দুঃখে যেন থমকে আছে শান্তিনগর।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top