‌আজকালের প্রতিবেদন: ফেল–করা পড়ুয়াদের পাশ করার সুযোগ করে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। এই কারণে ফিরিয়ে আনা হল ২০০৯ সালের পরীক্ষা সংক্রান্ত পুরনো বিধিটি। পুরনো বিধি অনুযায়ী নতুন নিয়মে ফেল–করা পড়ুয়াদের নতুন করে আবার ফল প্রকাশ করা হবে। মার্কশিটও দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের সিন্ডিকেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
পুরনো বিধিটি ফিরিয়ে আনা হলেও নতুন বিধিটি একেবারে বাতিল না করে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পুরনো বিধিতে ফেল–করা পড়ুয়াদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন নিয়মে ফেল–করা পড়ুয়ারা পুরনো নিয়ম চালুর ফলে এই পরীক্ষা দিতে পারবে। তাদের বছর নষ্ট হবে না। অর্থাৎ সবাই পার্ট–২ পরীক্ষা দিতে পারবে। প্রসঙ্গত, সোমবারই বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ছাত্রস্বার্থে পুরনো নিয়ম ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। 
এদিন সিন্ডিকেট বৈঠকের পর উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি বলেন, ‘‌২০০৯ সালের পরীক্ষা সংক্রান্ত পুরনো বিধিটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধিটি কবে থেকে ফের চালু হবে তা পরে জানানো হবে। নতুন করে ফের ফল প্রকাশিত হবে। মার্কশিটও দেওয়া হবে। বুধবার থেকেই কাজ শুরু হবে।’‌ পুরনো বিধিটি ফিরিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যায় উপাচার্য বলেন, ‘‌২০১৬ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তখন পুরনো বিধিই চালু ছিল। নতুন বিধিটি ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর চালু হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে এ নিয়ে সিন্ডিকেট হয়। আর এই নিয়মে পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। যে নিয়ম চলাকালীন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছে সেই নিয়মেই তার ফল প্রকাশিত হওয়ার কথা। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।’‌ সদ্য প্রকাশিত পার্ট–১ ফলের সঙ্গে তার আগের বছরের ফলের উল্লেখযোগ্য কোনও তফাত নেই। পর্যালোচনার সময় বিধিতে গন্ডগোল ধরা পড়ে বলেও জানান উপাচার্য। শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধেই কী এই সিদ্ধান্ত?‌ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য বলেন, ‘‌উনি ব্যক্তিগত কোনও অনুরোধ করেননি।’‌
বিএ পার্ট–১–এ এবার ৫৭ শতাংশ পড়ুয়া ফেল করে। বিএসসি–তে পাশের হার ৮৫ শতাংশ থেকে কমে এ বছর হয়েছে ৭১ শতাংশ। ১ লক্ষ ৪০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৪৪ হাজারের কাছাকাছি। কারণ হিসেবে নতুন নিয়মকেই দায়ী করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। পুরনো নিয়মটি কার্যকর হওয়ায় পাশের হার এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাবে। পুরনো নিয়মে জেনারেলের পড়ুয়াদের তিনটির মধ্যে একটি বিষয়ে পাশ করলেই হত। নতুন নিয়মে দুটিতে পাশ করা বাধ্যতামূলক হয়। অনার্সের ক্ষেত্রে পুরনো নিয়মে পাশের বিষয়ে পাশ না করলেও হত। নতুন নিয়মে একটিতে পাশ করতেই হবে। পুরনো নিয়মে ফেল–করা পড়ুয়াদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ ছিল। ফেল–করা পড়ুয়াদের বক্তব্য ছিল, তারা নতুন নিয়মটি জানত না। অনেক অধ্যক্ষও একই অভিযোগ করেন।

জনপ্রিয়

Back To Top