নীলাঞ্জনা সান্যাল: স্নাতকে ভর্তির সময়সীমা তিন দফায় বাড়িয়েও কলেজগুলিতে ফাঁকা থেকে গেল বহু আসন। পূরণ না–‌হওয়া আসনগুলির অধিকাংশ সংরক্ষিত হলেও, সাধারণ আসনও অনেক কলেজে ফাঁকা। সংরক্ষিত আসনগুলি অসংরক্ষিত করেও পড়ুয়া পাওয়া যায়নি। 
প্রথম দফায় ভর্তি–প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে ৪০ হাজারের মতো আসন ফাঁকা থেকে যায়। যার মধ্যে ৩৫ হাজারের মতো আসনই ছিল সংরক্ষিত। ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ আগস্ট করা হয়। তার পরও দেখা যাচ্ছে, কলেজগুলির সব আসন পূরণ হয়নি। একাধিক কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শুধু এ বছর নয়, পড়ুয়ার অভাবে গত কয়েক বছর ধরেই আসন ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। এ বছর ভর্তির সময়সীমা তিনবার বাড়ানোয় বিষয়টি চোখে পড়ছে। মূলত ফাঁকা থেকে যাচ্ছে সংরক্ষিত আসন। তবে সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ফাঁকা–‌থাকা আসনের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এত সংরক্ষিত আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবনা–চিন্তা করা উচিত বলেও মনে করছেন অনেক অধ্যক্ষ। 
লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে ৪০টির মতো আসন এবার ফাঁকা থেকে গেছে বলে জানান অধ্যক্ষ শিউলি সরকার। ফাঁকা  আসনগুলির মধ্যে সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত দুই–‌ই রয়েছে। আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার কারণ হিসেবে শিউলিদেবী বলেন, ‘‌আমাদের বিভিন্ন বিষয়ের কাট অফ মার্কস অনান্য কলেজের তুলনায় বেশি। মানের সঙ্গে আপস করে ভর্তির সময়সীমা বাড়ানো হলেও, যা কমানো হয়নি। কমালে হয়তো আমাদের আসনও পূরণ হত। আসন ফাঁকা থাকার এটা একটা কারণ বলে মনে হয়।’‌ মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজেও ৩৯৪ আসন ফাঁকা। অধিকাংশই সংরক্ষিত। ভর্তি–‌প্রক্রিয়া শেষের দিন তিনেক আগে অসংরক্ষিত করেও গুটিকয়েকের বেশি পড়ুয়া ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মন্টুরাম সামন্ত। তিনি বলেন, ‘‌সংরক্ষিত শ্রেণির ভাল রেজাল্ট–‌করা ছাত্রছাত্রী, যাদের নাম মেধা–‌তালিকার প্রথম দিকে থাকে, তারা সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়া হিসেবেই ভর্তি হয়ে যায়। পরে এই শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আসন সংরক্ষিত থাকলেও শেষকালে পড়ুয়া পাওয়া যায় না।’‌ বিবেকানন্দ কলেজ ফর উইমেন্সেও ১৫০টির মতো আসন ফাঁকা। যার ৯৯%‌–‌ই সংরক্ষিত। প্রথম বার অসংরক্ষিত করেও পড়ুয়া মেলেনি বলে পরে আর তা করা হয়নি, জানান অধ্যক্ষ সোমা ভট্টাচার্য। বাংলা, দর্শন, ভূগোল, ভূতত্ত্ব ছাড়া আর কোনও বিষয়ে ওবিসি–‌দের জন্য সংরক্ষিত আসনে পড়ুয়া ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমাদেবী বলেন, ‘‌পিছিয়ে–‌পড়া শ্রেণির জন্য কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন আসন সংরক্ষিত হয়েছে, তেমনই ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি, পলিটেকনিকেও আসন সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে তারা এ–‌সব না পড়ে কলেজে পড়তে আসবে কেন?’‌ ৪০০–‌র মতো আসন ফাঁকা সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ আসন সাধারণ, জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল কর। সংস্কৃত, অর্থনীতি, সমাজবিদ্যা, রসায়ন, পদার্থবিদ্যার সব আসন পূরণ হয়নি। ইন্দ্রনীলবাবু বলেন, ‘‌বিএ, বিএসসি না পড়ে পেশাগত কোর্সে একটা ঝোঁক তৈরি হয়েছে কয়েক বছর ধরেই। অনেকেই দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন, চাকরিও করছেন।’‌ চিত্তরঞ্জন কলেজে ৫০০–‌র মধ্যে ৪০টির মতো আসন ফাঁকা। মূলত সংরক্ষিত, জানিয়েছেন অধ্যক্ষ শ্যামলেন্দু চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, ‘‌কলকাতার কলেজগুলিতে গত কয়েক বছর ধরেই সংরক্ষিত আসন পূরণ হচ্ছে না। ফলে যেখানে পিছিয়ে–‌পড়া শ্রেণির পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি, সেখানে কলেজের সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top