অভিজিৎ বসাক- পছন্দের চ্যানেল বাছাইয়ের সুযোগ নেই, নিতে হবে প্যাকেজই। বাছাই করে দেওয়ার পর মিলছে না তঁাদের পছন্দের চ্যানেল। অনেক চ্যানেল বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। ফলে গ্রাহক না দেখতে চাইলেও দেখতে হচ্ছে অপছন্দের চ্যানেল। এমনই অভিযোগ উঠেছে কেব্‌ল অপারেটর, এমএসও–‌দের একাংশের বিরুদ্ধে। এই পদক্ষেপ টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (‌ট্রাই) নিয়মের পরিপন্থী। পরিশ্রম কম করতে, আয় আগের মতোই রাখতে এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
কেব্‌ল ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে এই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে দর্শকদের। যঁারা এখনও তালিকা জমা দেননি, তঁাদের ক্ষেত্রে ট্রাই–‌এর নিয়মে চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে যঁারা পছন্দ জানিয়ে দিয়েছেন, তঁাদের সেইমতো চ্যানেল পাওয়ার কথা। নতুন ব্যবস্থায় প্যাকেজের পাশাপাশি নির্দিষ্ট চ্যানেল বেছে নিতে পারেন দর্শক। তঁাদের জমা–‌করা চ্যানেলের তালিকা দেখে অপারেটর সিস্টেমে তা নথিভুক্ত করছেন। এই কাজ করতে সময় লাগছে। কোনও গ্রাহকের বাছাই–‌করা চ্যানেলের তালিকা দেখে এক–‌এক করে সিস্টেমে ঢোকাতে হয়। ১০টি চ্যানেল ঢোকাতে মিনিট পঁাচেক লাগে। এবার কোনও কেব্‌ল অপারেটরের প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকলে তঁার কাজ করতে দেরি হচ্ছে। তাই ঝক্কি এড়াতে তিনি গ্রাহককে সোজা প্যাকেজের প্রস্তাব দিচ্ছেন। এবং অনেক জায়গায় চ্যানেল বন্ধও করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আয়ের পরিমাণ আগের মতো রাখতে তঁারা প্যাকেজ চাপিয়ে দেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ট্রাই–‌এর নিয়মে যা করা যায় না। নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে নিজেদের পছন্দের চ্যানেল দেখার। অসুবিধে হলে ট্রাই–‌এ অভিযোগ জানাতে হবে।
কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক, বিধাননগরের বেশ কিছু এলাকায়, বাগুইআটি, বেলঘরিয়া–সহ আরও অনেক জায়গায় এমন অভিযোগ উঠেছে। চ্যানেলের তালিকা জমা দেওয়ার পরও দুম করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চ্যানেল। সংশ্লিষ্ট কেব্‌ল অপারেটরদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, সার্ভার ডাউন থাকার জন্য এই সমস্যা। অনেকে সরাসরি প্যাকেজ নেওয়ার কথা বলছেন। সোমবার বাগুইআটির পিয়ালি মুখার্জির দাবি, ‘‌চ্যানেলের তালিকা জমা দেওয়া হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই তালিকার বেশ কিছু চ্যানেল টিভি থেকে উধাও। সার্ভারের সমস্যা রয়েছে, তাড়াতাড়ি মিটে যাবে, জানিয়েছেন অপারেটর।’‌‌‌ নিমতার নিলয় দাসের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি হাই–‌ডেফিনেশন (‌এইচডি) চ্যানেল, খেলার চ্যানেল আসছে না। বেলঘরিয়ার আনন্দ চ্যাটার্জির বক্তব্য, ‘‌আগের ব্যবস্থা ভাল ছিল। খরচ খানিকটা বেড়ে গেছে।’‌
এ ব্যাপারে সিটি কেব্‌লের কর্ণধার সুরেশ শেঠিয়া বলেন, ‘‌দর্শক যে–‌চ্যানেল দেখতে চাইবেন, তঁাকে সেগুলি দিতে হবে। দর্শক যা চাইছেন, আমরা সেই চ্যানেল দিচ্ছি।’‌ এখনও পর্যন্ত তঁাদের দর্শকের প্রায় ৮০ শতাংশ নতুন ব্যবস্থায় চলে এসেছেন বলে দাবি তঁার। কেব্‌ল অপারেটর্স সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের চাহিদা মেটানো।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top