দীপঙ্কর নন্দী- ‘‌‌কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের ১ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা। ৫০ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতেই চলে যাচ্ছে। বুলবুলের টাকা কেন্দ্র থেকে এখনও পাইনি।  তা সত্ত্বেও আমরা এবার জনমুখী, বন্ধু বাজেট ও গরিবদের বাজেট করেছি।’‌ সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। মমতা বলেন, ‘‌কেন্দ্রের বাজেটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা এই পরিকল্পনাগুলি চালিয়ে যাব। কেন্দ্রকে বলি, এভাবে রাজনৈতিক বৈষম্য করা উচিত নয়। সংবিধানে কতকগুলি বাধ্যবাধকতা থাকে।’‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‌রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসা বন্ধ করে উন্নয়নের জন্য আসুন একসঙ্গে কাজ করি। কেন্দ্রের কাছে দাবিদাওয়া নিয়ে প্রায়ই বলা হচ্ছে।’‌ অমিত মিত্র বলেন, ‘‌সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের দাবিদাওয়ার কথা জানিয়েছেন।’‌ অমিতবাবু বলেন, ‘‌জিএসটি নিয়ে ১৯–‌২০‌তে রাজ্যের পাওনা ৫৯২৬০.‌৯১ কোটি টাকা। সেখানে কেন্দ্র কমিয়ে ৪৮০৪৮.‌৪০ কোটি টাকা করে দিল। এই ধরনের বৈষম্য  চলেই আসছে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌গরিব রাজ্য তাই কর নেওয়ার জায়গা কম। বোঝা না চাপিয়েও কাজ করা যায়। আমাদের বাজেটে কর চাপানো হয়নি। এই বাজেট মানুষের উপকারে লাগবে। নোটবন্দির পর অর্থনীতির অবস্থা যেখানে দাঁড়িয়েছে তা সকলেই জানেন। ক্যাশলেসের কথা বলা হয়েছিল। একটা পটলের দোকান কার্ড দিয়ে পটল বিক্রি করতে পারবে?‌ কার্ড হতে পারে, যদি পরিকাঠামো  ঠিক থাকে।’‌
মমতা বলেন, ‌‘‌বাংলায় দারিদ্র কমেছে, এতে আমি গর্বিত। বেকারের সংখ্যা এখন ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছি। আদিবাসীদের জন্য বাজেটে বহুমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে। ওদের আরও গুরুত্ব দেব। ওদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করব।’‌ এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন সুব্রত মুখার্জি, পার্থ চ্যাটার্জি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও নির্মল ঘোষ।‌

জনপ্রিয়

Back To Top