তারিক হাসান- বিএসএনএল তুলে দেওয়ার চক্রান্তে শুধু কর্মীরাই নন, দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকেরাও। কর্মী সঙ্কোচন করে আসলে সংস্থাটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ। এর ফলে একদা লাভজনক এই সংস্থাটির পরিষেবা এখন তলানিতে। ফোন খারাপ হলে মেরামত হচ্ছে না। বিল জমাও দেওয়া যাচ্ছে না সময়মতো। মোবাইল টাওয়ারও অনেক সময় কাজ করছে না। বিপাকে পড়েছেন প্রবীণরা। বিএসএনএলের কর্মী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্রের উদাসীনতায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। উদ্দেশ্য, গ্রাহকেরা বিরক্ত হয়ে বিএসএনএলের সংযোগ ছেড়ে দিক। একদা লাভজনক সংস্থা রুগ্ণ করে বিক্রি করে দেওয়াই লক্ষ্য। কর্মীসঙ্কোচন সেই কারণেই। সেই লক্ষ্যে সম্পত্তিও বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
২০০৮ সাল পর্যন্ত লাভেই চলত বিএসএনএল। বিপর্যয় শুরু মোবাইলের ব্যবহার বাড়তে শুরু করার পর থেকে। বেসরকারি সংস্থাগুলি মোবাইল সংযোগ দেওয়ার অনুমতি পেলেও বিএসএনএল পায় বেশ পরে। এর কারণেই ২০১২ সাল থেকে লোকসান বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে গত বছর কর্মীসঙ্কোচনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাবসর প্রকল্প চালু করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়, কর্মী কমলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। ৪জি পরিষেবাও বিএসএনএলে অন্তর্ভুক্ত হবে।
বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সভাপতি অনিমেষ মিত্রর অভিযোগ, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ গত বছরের ২৩ অক্টোবর বলেছিলেন, কর্মী সঙ্কোচন করলেই বিএসএনএল–কে ৪জি পরিষেবা দেওয়া হবে। কর্মীসঙ্কোচন হয়ে গেছে। এখনও ৪জি দেওয়া নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে জুলাই মাসে তা দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, অন্য বেসরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলো যেখানে ৪জি পরিষেবা দিচ্ছে সেখানে বিএসএনএল ২জি পরিষেবা দিতে পারছে। গ্রাহক তা নেবেন কেন?‌ অথচ ৪জি পরিষেবা দিতে পারলে এখনও গ্রাহকদের পছন্দ হতে পারে বিএসএনএল। গ্রাহকদের ভোগান্তির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৭৮ হাজারেরও বেশি কর্মী স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। সারা দেশে এখন কর্মী রয়েছেন ৭০ হাজারের মতো। স্বাভাবিকভাবেই অনেক অফিসেও লোক কমে গেছে। ল্যান্ডফোন ‘‌ডেড’‌ হলে মেরামতির লোক দিতে সমস্যা হচ্ছে, বিল পাঠানো যাচ্ছে না। অর্ধেকেরও কম কর্মী নিয়ে সমস্যা তো হবেই। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সাধারণের ভোগান্তি তাই বেড়েই চলেছে। এ সবের প্রতিবাদে সোমবার তাই দেশ জুড়ে বিএসএনএল কর্মীরা অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা চাকরি করছেন তাঁদের তো বটেই, যাঁরা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন, তাঁদেরও ২ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা ৮ থেকে ১০ মাসের বেতন পাননি। এরকম অবস্থায় লোকে কাজ করবেন কী করে? অথচ সারা দেশে একমাত্র বিএসএনএলেরই নিজস্ব ‘‌মোবাইলের সিম’‌ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলির তা নেই। লোক দেখানো পুনরুজ্জীবনের কথা বলা হচ্ছে। আদতে সংস্থাকে ক্রমশ রুগ্ণ করে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
আইএনটিইউসি–র বিএসএনএলের ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেলের সার্কেল সেক্রেটারি গোরা বসুর অভিযোগ, ২জি আর ৩জি নিয়ে ৪জি–র সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এরকম অসম লড়াই কী করে লড়া সম্ভব?‌ এরকম স্টিম রোলার চালিয়ে স্বেচ্ছাবসরের মাধ্যমে কর্মী কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেতনও ঠিকমতো হচ্ছে না। সংস্থা বাঁচবে কী করে? বিএসএনএল বাঁচাতে আদৌ কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা আছে কি?‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top