উদয় বসু: এবার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া দমদমের জগদীশপল্লীর ফ্ল্যাটে। এক সপ্তাহের বেশি দিদির মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন ভাই। কয়েক দিন ধরেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে চরমে ওঠে। পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ এসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা খুলে রুমা দত্ত (৫৩)–এর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। দিদির দেহ আগলে ছিলেন রুমার ভাই বিশ্বরূপ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। রুমাদেবী এবং তাঁর ভাই বিশ্বরূপ দু’‌জনেই মানসিক রোগী বলে জানা গেছে। বিশ্বরূপকে এদিন তাঁর বোন ঝুমার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দমদম জগদীশপল্লী এলাকায়। বহু উৎসুক মানুষ ওই ফ্ল্যাট দেখতে জড়ো হন। বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসাতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রুমাদেবীর মৃত্যুর যথার্থ কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে। তবু অনুমান, কোনও অসুখেই মৃত্যু হয়েছে রুমার। রুমা, বিশ্বরূপ দুই ভাই–বোন মানসিক রোগী হওয়ায় জগদীশপল্লীর ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন ওঁদের বোন ঝুমা দত্ত। তিনি দেড় কিমি দূরে থাকেন। ওঁদের আসল বাড়ি মুর্শিদাবাদের পলাশিতে। বাবা–মা দু’‌জনেই মারা গিয়েছেন। তাঁদের ফ্ল্যাট ছোট হওয়ার জন্যই দুই ভাই–বোনের চিকিৎসা করানোর জন্যই ফ্ল্যাটটি নেওয়া হয়। প্রতিদিন এক মহিলা তাঁদের ফ্ল্যাটে একবার করে আসতেন। তিনি বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তেন। ভেতর থেকে বিশ্বরূপ এসে খাবার নিয়ে চলে যেতেন। প্রতিবেশী এক মহিলা জানিয়েছেন, বিশ্বরূপদের ফ্ল্যাটে যিনি খাবার দিতে আসতেন সম্প্রতি তিনি শুধু এদিক–ওদিক সন্দেহবশত দেখতেন। কয়েক দিন ধরে একটা পচা দুর্গন্ধ আসছিল মাঝে মাঝে। কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। ওই ফ্ল্যাটের কাছেই থাকেন এক পুলিশকর্মী। তাঁর সন্দেহ হয়, গন্ধটি পচাগলা মানুষের। এটা জানার পর দমদম থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশকে ঝুমা জানান, গত ৩–৪ দিনের খাবার, রুটি, কলা ইত্যাদি দিয়ে তিনি পলাশি যান। ফিরে এসে এ ঘটনার কথা জানতে পারেন।                              

ছবি: ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top