সব্যসাচী সরকার: ভাগ্যিস নাতি ফেসবুক করতেন!‌ ঠাকুমা হারিয়ে যাওয়ার পর ঠাকুমার ছবি নাতি ফেসবুকে দিয়ে ঠাকুমাকে খুঁজছিলেন। শেষে ফুলবাগান থানা ফেসবুকের সূত্র ধরে ঠাকুমাকে ফিরিয়ে দিল নাতির কাছে। স্বয়ং ডিসি (‌ইএসডি)‌ অজয় প্রসাদ বলছেন, ‘‌এটি একটি দারুণ সমস্যার সমাধান।’‌ সোমবার দুপুরে ফুলবাগান থানার পুলিশ লক্ষ করে, এক বৃদ্ধা উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। থানায় নিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন সাব–ইনস্পেক্টর নিমালাখি ভুটিয়া। কিন্তু ওই বৃদ্ধা এমনকী প্রকৃত নামও বলতে পারছিলেন না। শুধু একটি কথাই বলছিলেন, কদমতলা।ওই মহিলা পুলিশ অফিসার আশপাশের সমস্ত থানায় এমনকী কলকাতায় কদমতলা নামে যতগুলি জায়গা রয়েছে, সেখানেও খোঁজ নেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং হোমেও যোগাযোগ করেন, যাতে ওই বৃদ্ধাকে সাময়িকভাবে রাখা যায়। কিন্তু করোনার ভয়ে কেউই বৃদ্ধাকে রাখতে চান না। নানা জায়গায় খোঁজ করেও না পেয়ে ওই অফিসার ফেসবুক ঘাঁটতে শুরু করেন। এবং সেখানেই মেলে আশ্চর্যজনকভাবে একটি সূত্র। দেখা যায়, ফেসবুকে ওই বৃদ্ধার ছবি দিয়ে নিখোঁজ বলে একজন পোস্ট দিয়েছেন। যিনি পোস্ট দিয়েছেন, পুলিশ তাঁর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করে ফেসবুকের মাধ্যমে। যে এলাকায় ওই বাসিন্দা থাকেন, প্রযুক্তির দৌলতে সেই জায়গার লোকেশন খুঁজে বার করা হয়। দেখা যায় পোস্টটি দিয়েছেন জনৈক রোহিত সোনকার। পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। রোহিত থানায় আসেন। থানায় এসেই বৃদ্ধাকে চিনতে পারেন। ইনিই তাঁর হারিয়ে যাওয়া ঠাকুমা। ঠাকুমার নাম পার্বতীদেবী সোনকার। বয়স ৮০। বৃদ্ধাও নাতিকে দেখে এগিয়ে আসেন। এরপর নাতির হাত ধরে রাজা দেবেন্দ্রচন্দ্র স্ট্রিটের বাড়িতে ফিরে যান। গোটা থানা এই মধুর মিলনের সাক্ষী থাকে। নিমালাখি ভুটিয়াও খুব খুশি একেবারে শূন্য থেকে তদন্ত করে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পেরে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top