আজকালের প্রতিবেদন: বইমেলায় শনি ও রবিবারের ভিড় সামাল দিতে তৈরি বিধাননগর পুলিস কমিশনারেট। মেলা শুরুর সপ্তাহে কাজের দিনগুলিতে এসেছিলেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার মানুষ। ছুটির দিনে সংখ্যাটি বেড়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজার পৌঁছে যায়। এই সপ্তাহে বুধবার থেকে মেলায় আসা মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। বইমেলার গেটগুলিতে দর্শক–ক্রেতা গোনার যন্ত্র বসেছে। সেই যন্ত্র থেকেই এই তথ্য হাতে এসেছে পুলিসের। আজ বইমেলার দ্বিতীয় শনিবার। কাল রবিবার বইমেলার শেষদিন। তাই শেষদিনগুলিতে ভিড় আরও অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন পুলিসকর্তারা। শুক্রবার বিধাননগরের উপনগরপাল (‌সদর)‌ অমিত পি জাভালগি বলেন, ‘‌বইমেলায় মানুষের সুবিধের দিকে সবথেকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আসছেন, তঁারা আমাদের বলেছেন, সব জায়গাতেই পুলিস কর্মীদের দেখতে পাওয়া গেছে। পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা করা হয়েছে। মেলার মাঠ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখতে সর্বত্র ‘‌ডাস্টবিন’‌ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গিল্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, মেলায় এবার বইয়ের বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিন পুলিস, গিল্ড, কেএমডিএ, বিধাননগর পুরনিগম, অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর–সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হয়। এর ভিত্তিতে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। শনি ও রবিবার ভিড় অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া লিটারারি মিট চলছে। কবি–সাহিত্যিক–সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ আসবেন বইমেলায়। তাঁদের নিরাপত্তা ও ভিড় সামাল দিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।‌ এদিকে, পুলিস সূত্রে খবর, বইমেলায় এখনও পর্যন্ত পকেটমারি বা মহিলাদের সম্ভ্রমহানির মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। দু’‌জনের কিছু জিনিস খোয়া গিয়েছে। ‌তাঁরা নিজেরাই ব্যাগ ফেলে চলে গিয়েছিলেন। পরে এসে দেখেন ভিতরের কিছু জিনিস নেই। ভিড়ে কয়েকজন শিশু পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তাদের কারও পরিচয়পত্র ছিল না। তবে পুলিসি তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের খুঁজে পেয়েছে পরিবার। বইমেলার আসা গাড়ির সংখ্যা এবার বেড়েছে গতবারের তুলনায়। কাজের দিনগুলিতে পার্কিং এলাকায় ছিল ২ হাজার গাড়ি। ছুটির দিনে সংখ্যাটি আরও বেড়েছে। দর্শকদের সুবিধের জন্য মেলার আসা ও বেরনোর জন্য ৯টি গেট রয়েছে। গেটগুলি ২০–‌২৫ মিটারের মধ্যে। এ ছাড়া পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। বইমেলার জন্য প্রতিদিন স্পেশ্যাল বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করুণাময়ীর সঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের বাস–যোগাযোগ রয়েছে। এইসব কারণে এবং সব দপ্তরের সুষ্ঠু সমন্বয়ের জন্য বইমেলায় এসে মানুষকে অসুবিধেয় পড়তে হয়নি। ‌
‌এদিকে, বইমেলার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। খাবারের দোকানগুলিতে নজরদারি চলছে। প্রতিদিন দেখা হচ্ছে, রান্নার জায়গাগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা। এছাড়া রয়েছে পুলিসের সহায়তাকেন্দ্র। যে কোনও সমস্যার সমাধান মিলছে। বইমেলায় বিধাননগর কমিশনারেটের কন্ট্রোল রুমেও সহায়তা পরিষেবা পাচ্ছেন মানুষ।

ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top