সুজিত-সব্যসাচী সমীকরণ! সরগরম বিধাননগর

শ্রাবণী গুপ্ত: দেবীপক্ষের শুরুতেই তৃণমূলে ফেরেন সব্যসাচী দত্ত। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সামনে পুজো থাকায় এই নিয়ে যতটা হইচই হওয়ার কথা ছিল ঠিক ততটা হয়নি। কিন্তু দশমীর সন্ধে প্রমাণ করে দিল, তুষের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলে। 
বিধাননগরের বর্তমান বিধায়ক সুজিত বসুর সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের সম্পর্ক নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে চর্চা নতুন নয়। তাই পুজোর মুখে সব্যসাচীর প্রত্যাবর্তন এবং তা নিয়ে সেভাবে সুজিতের সরব না হওয়া কিঞ্চিৎ ভাবিয়েছিল ওয়াকিবহাল মহলকে। 
দশমীর দিন মমতা ও অভিষেকের পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর দায়ের হল সুজিত পুত্র সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে। ফের সরগরম বিধাননগর। একই সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার এই অংশে শাসকদলের সমীকরণ ঘিরে ফের চর্চা চালু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সুজিত অনুগামীরা বলছেন, পুজোর সময় থেকেই একের পর এক নিজের দলের নেতাদের বাউন্সারের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের ‘দাদা’কে। কিন্তু দশমীর ঘটনা নাকি ‘জোর ধাক্কা’ দিয়েছে সুজিতকে। 

আরও পড়ুন: গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার নাবালিকার বাবাই, দুষ্কর্মে সামিল সপা, বসপার জেলা সভাপতি!  


বুর্জ খলিফা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন সুজিত বসু। কিন্তু গোটা পুজোপর্বে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের বিস্তর ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অন্তত এমনটাই বলছে সব মহল। শাসক শিবিরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানান কথা। চতুর্থী থেকে কার্যত ‘টক অফ দা টাউন’ শ্রীভূমি। যেন মনে করিয়ে দিয়েছে বছর কয়েক আগের দেশপ্রিয় পার্কের পুজোকে। সেবছর যেমন আর কোনও পুজো পাত্তা পায়নি, এবছরও তেমনই ‘ক্রেজ’ হয়ে দাঁড়ায় বুর্জ খলিফা। একচেটিয়া পুজোর ভিড় টেনে অভ্যস্ত শহরের দক্ষিণের পুজোগুলোয় ভিড়ের অভাব নাকি মনমরা করে দিয়েছিল উদ্যোক্তাদের। এর পরেই ষষ্ঠীতে প্রথমে লেজার বন্ধ। সপ্তমীতে মণ্ডপে ঢোকার একদিকের রাস্তা বন্ধ করে প্রশাসন। অষ্টমীতে বন্ধ হল প্রতিমা দর্শন। নবমী থেকে পূর্ব রেলের সিদ্ধান্ত মতো লোকাল ট্রেন দাঁড়ানো বন্ধ হয় বিধাননগর স্টেশনে। আর দশমীতে কফিনে আপাতত শেষ পেরেক, সব্যসাচী অনুগামী জনৈক উদয়ন সরকারের এফআইআর, সুজিত পুত্রের বিরুদ্ধে।
২১-এর ভোটে মুখোমুখি লড়েছিলেন সুজিত আর সব্যসাচী। রাজীব ব্যানার্জি সহ তৃণমূলে ফিরে আসতে ইচ্ছুক অনেকের লম্বা লাইন টপকে বিজেপি থেকে একমাত্র হেরে যাওয়া প্রার্থী সব্যসাচী ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। তারপরেই সুজিতের বিরুদ্ধে এহেন পদক্ষেপ। ঘনিষ্ঠ মহলে সুজিত নাকি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে থানায় ডাইরি হল, মিডিয়া জেনে গেল অথচ তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক হয়েও এত পরে জানতে পারলেন? অতীতে দত্তাবাদে ঝুপড়ি উচ্ছেদ থেকে নিউটাউনের সিন্ডিকেট নিয়ে বারবার ‘ঝামেলা’ বেধেছে এই দুই নেতার মধ্যে। এবার জল কোনদিকে গড়ায় সেদিকেই নজর সবার।
 

আকর্ষনীয় খবর