আজকালের প্রতিবেদন: নোবেল প্রাপ্তিতে অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জিকে শুভেচ্ছা জানাল বিধানসভা। সোমবার পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাব আনলে সর্বসম্মতভাবে তা অনুমোদিত হয়। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি ঘোষণা করেন, এই শুভেচ্ছা প্রস্তাব সরকারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জির পরিবারের কাছে। সেই সঙ্গে পার্থ চ্যাটার্জির প্রস্তাব মেনে অধ্যক্ষ এদিন ঘোষণা করেন, অভিজিৎবাবুর তিনটি বই রাখা হবে বিধানসভার পাঠাগারে। যাতে বিধায়করা তা পড়তে পারেন। সেই সঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্রের প্রস্তাব মেনে অধ্যক্ষ বলেন, ‌আমরা চাই দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে এই বিধানসভায় এসে বক্তৃতা দিন নোবেলজয়ী অধ্যাপক। যাতে আমরা সরাসরি ঋদ্ধ হতে পারি। এ ব্যাপারে দ্রুত তিনি উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান। এদিন বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি এই ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তাঁকে সমর্থন করে বক্তৃতা করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী, বিধায়ক রমা বিশ্বাস, সুখবিলাস বর্মা, রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নগেন্দ্রনাথ রায়, জ্যোতির্ময় কর, অশোক দিন্দা, নর্মদাচন্দ্র রায়, মনোজ টিগ্গা, রোহিত শর্মা এবং অসিত মিত্র। সুজন বলেন, অমর্ত্য সেন যখন নোবেল পেয়েছিলেন, তখনও এই বিধানসভায় ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। তিনিও দারিদ্র নিয়েই থিসিস লিখেছিলেন। তাঁর মূল কথা ছিল, জনস্বাস্থ্য ও জনশিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভব নয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রকে কল্যাণকামী হতে হবে। পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, বিশ্বদারিদ্র দূরীকরণে অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে অর্থনীতিকে যুক্ত করে কাজ করেছেন। আমরা শুধু শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ দিয়ে থামতে চাই না। তাঁর কাজকে কীভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা খুঁজতে চাই। যা বাস্তবে খুবই কঠিন কাজ। খিদে, দারিদ্র, অপুষ্টি, অশিক্ষা তাঁকে বারবার নাড়া দিয়েছে। শুধু তাত্ত্বিকভাবে নয়, পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি প্রয়োগ করতে চেয়েছেন তিনি। আসুন, সবাই মিলে আমরা গর্বিত হই তাঁর কাজে, সবাই মিলে কুর্নিশ জানাই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top