‌আজকালের প্রতিবেদন, কলকাতা, বর্ধমান ও বোলপুর: এটিএম প্রতারণার জাল ক্রমশই ছড়িয়ে যাচ্ছে। কলকাতা থেকে বর্ধমান হয়ে বোলপুর। পরিস্থিতি যা, প্রতারকেরা শুধু কলকাতা নয়, জেলায় কোথায় কোথায় টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবার সে–সমস্ত তথ্যও সামনে আসছে। কলকাতায় যাদবপুর থানা এলাকায় এটিএম প্রতারণার অভিযোগ বেড়ে ৪৪টি হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবারই চারু মার্কেট থানা এলাকায় ১৫টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এক গভীর আশঙ্কায় রয়েছেন সমস্ত স্তরের মানুষ। কেউই জানেন না, কখন তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলে এসএমএস–ও আসছে না। ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে পাশবই আপডেট করার পর মাথায় হাত পড়ছে মানুষের। দেখছেন, কোথাও ২০ কোথাও ৩০ হাজার টাকা বা আরও বেশি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন চিপ লাগানো কার্ডের নম্বরও ক্লোন করে প্রতারকেরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল (‌অপরাধ দমন)‌ মুরলীধর শর্মা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ‘‌যাদবপুর ও চারু মার্কেট মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১২ লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গেছে। দুটি মামলা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ব্যাঙ্ক প্রতারণা দমন শাখা ও সাইবার ক্রাইম থানা তদন্তে নেমেছে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একটি দল পাঠানো হয়েছে। দিল্লি পৌঁছে দলটি কাজও শুরু করেছে। তদন্তে মনে হচ্ছে, তুরস্ক কিংবা রোমানিয়ার এটিএম প্রতারকদের একটি দল কাজ করছে।’‌
কলকাতা পুলিশ নাগরিকদের জন্য কতকগুলি সুপারিশ করেছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বলা হয়েছে এটিএম কাউন্টারে প্রহরা বসাতে। সমীক্ষায় পুলিশ জেনেছে, কলকাতার প্রায় ২৫০টি এটিএম কাউন্টারে প্রহরা নেই। প্রতিটি থানা এলাকায় দিনে দু’‌বার টহলদারি চলবে। এটিএম কাউন্টারগুলির পরিস্থিতি দেখতে। গ্রাহকেরা প্রতি ৬ মাস অন্তর এটিএমের পিন নম্বর বদলে নিন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে পুলিশ বলেছে, প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা যাতে দ্রুত ফেরত দেওয়া যায়, সেদিকটি দেখতে। যে সমস্ত এটিএম কাউন্টারে সিসি টিভি খারাপ রয়েছে, সেগুলি সারাতে বলা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চারু মার্কেট থানা এলাকায় এর আগেও রোমানিয়া গ্যাং এটিএম প্রতারণা করেছিল। ধরাও পড়েছিল। স্কিমিং মেশিন যাতে না বসাতে পারে, সেজন্য ব্যাঙ্ক অ্যান্টি স্কিমিং মেশিন অনেক জায়গায় বসিয়েছে। সম্প্রতি নিউ মার্কেট থানা এলাকা থেকে বিহারের ৩ জন লোক ধরাও পড়েছে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা করেছে। তাদের বক্তব্য, এটিএম কার্ড ব্যবহার করার পরেই তা নিষ্ক্রিয় করে রাখুন। এজন্য ওই ব্যাঙ্ক একটি বিশেষ অ্যাপও চালু করেছে। কলকাতা পুলিশের দলটি দিল্লি পুলিশের সহায়তায় ভিনদেশী প্রতারকদের ডেরাগুলিতে খোঁজখবর নিচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই গ্যাংটিকে ধরা যাবে বলে আশাবাদী। দিল্লি থেকে সিসি টিভি ফুটেজে ৩ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে।l ১ পাতার পর
মুখোশ পরে তারা টাকা তুলছিল। এদিকে, জেলে থাকা রোমানিয়ান গ্যাংয়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
এটিএম ক্লোনিংয়ের অভিযোগ উঠেছে বর্ধমানেও। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্রণবকুমার চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি কোনও এসএমএস পাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় টাকা তোলার পর, শাঁখারিপুকুর হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা প্রণববাবু দেখেন, তাঁর ২০ হাজার টাকা গায়েব। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সাইবার থানাতেও অভিযোগ করেছেন। ফোনে তিনি কোনও এটিএমের তথ্য কাউকে দেননি। অন্যদিকে, বীরভূমের কীর্ণাহাররের শিক্ষক সৌম্যজিৎ মল্লিক প্রতারণার শিকার। ১২ নভেম্বর বোলপুরের স্টাইলবাজারের কাছে এসবিআই এটিএম থেকে ৬ হাজার টাকা তুলেছিলেন। এরপর ১৭ নভেম্বর রাতে প্রথমবার ৪০ হাজার ও পরে ৮০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। নানুর থানা ও ব্যাঙ্কে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ব্যাঙ্কের শাখা থেকে জানতে পেরেছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার শ্রীরামপুর বেনিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ওই টাকা চলে গেছে। জামশেদপুরের একটি এটিএম থেকে ৪০ হাজার টাকা করে দু’‌বারে ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। বোলপুরের এসবিআইয়ের ওই কাউন্টারে কোনও রক্ষী ছিল না। কার্ড ক্লোন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top