তারিক হাসান: আনন্দ মধ্যগগনে। প্রাণের উত্‍‌সবে মাতোয়ারা শহর, শহরতলী থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য। রবিবার অষ্টমীর সন্ধেয় আলোকমালায় সেজে উঠল রাজপথ। আলোকিত সেই পথে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল দর্শনার্থী। হঠাৎ দেখলে মনে হবে রাজপথ দিয়ে যেন স্রোত বয়ে আসছে। সেই স্রোত রাজপথ থেকে ছোট রাস্তা হয়ে ঢুকে পড়ছে মণ্ডপে মণ্ডপে। আবার নতুন স্রোত এসে মিশছে রাজপথে। কোথাও আবার সেই স্রোত পাতালমুখী। মেট্রোয় চেপে শহরের আরেক প্রান্তে যাওয়ার তাড়া। সেই তাড়ায় লম্বা লাইন। প্রতীক্ষার সেই পর্ব পার হয়ে শহরের আরেক প্রান্তে পৌঁছে ফের রাজপথের স্রোতে মিশে যাওয়া। উত্তর থেকে দক্ষিণ— কলকাতা ও শহরতলীর বড় বড় মণ্ডপে এভাবেই কাতারে কাতারে দর্শনার্থীরা ভিড় জমালেন। কেউ সুরুচি সঙ্ঘে তো কেউ ত্রিধারা সম্মিলনীতে। কেউ আবার শ্রীভূমি, দেশপ্রিয় পার্কে কিংবা মহম্মদ আলি স্কোয়্যার, একডালিয়া এভারগ্রিনে। ভীড় বিধাননগরের পুজোগুলিতেও। উৎসবের আড্ডা জমে উঠল ম্যাডক্স স্কোয়্যারে। ক্ষণিকের পরিচয়, আড্ডা পরিণত হল বন্ধুত্বে। ভিড় জমেছে জেলার পুজোগুলিতেও।

 

ভিড় যে ক্রমেই বাড়বে তা তো তিলত্তমার বাসিন্দারা আগেই আঁচ করে নিয়েছিলেন। তাই আগেভাগে পছন্দের মণ্ডপ দর্শনে অষ্টমীর দুপুরেই রাজপথে নেমে পড়েছিলেন প্রচুর মানুষ। মাঝে বিকেলের বৃষ্টি, মেঘের গর্জন কেমন যেন সকলকে থমকে দিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি থামতে ফের সবাই নব উৎসাহে মন্ডপমুখী। রাত যত ঘন হল ততই বাড়ল উৎসবর আমেজ। সময়ের সঙ্গে বাড়ল গাড়ি। কমল যানের গতি। তাতে মাঝেমধ্যে থমকে গেল রাজপথ।

ভীড় টানছে চেতলা অগ্রণী, নাকতলা উদন সঙ্ঘ, ম্যাডক্স স্কোয়ার, সিংহি পার্ক, বাগবাজার সার্বজনীন, টালা বারোয়ারি, চালতা বাগান, ঠাকুরপুকুর এস বি পার্কও। ভিড়ে, জনস্রোতে কে যে কাকে টেক্কা দিচ্ছে বুঝে ওঠাই দায়। ভিড়ে ঠাসা পথে প্রতীক্ষা, পছন্দের মণ্ডপে ঢোকার। তারপর ভাল করে দেখে নিয়েই সেলফি তোলা আর সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট। তারপর পরের থিমের উদ্দেশ্যে ভোঁ দৌড়। একের পর এক মণ্ডপ দর্শনে ক্লান্ত হয়ে অনেকেই বসে পড়লেন পথের পাশে। সেখানে চলল চুটিয়ে আড্ডা। একটু জল, খাবার খেয়ে চাঙ্গা হয়ে নেওয়া। পথের রসদ জুগিয়ে ফের একবার জনস্রোতের অংশ হয়ে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলা।

রাত যত বাড়ল ততই মধ্য গগনে উৎসব। সকলের ভাবনা প্রায় এক। অষ্টমী নিশিতেই যত বেশি সম্ভব ঠাকুর দেখে নেওয়া।

 

জনপ্রিয়

Back To Top