Subhash Bhowmick: পিতৃসম সুভাষকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন বাইচুং, অ্যালভিটো, ডগলাসরা

আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণে ময়দানে 'পিতৃহারা' হলেন বাইচুং ভুটিয়া, অ্যালভিটো ডি'কুনহারা।

ফুটবল জীবনের নানান স্মৃতি উঁকি মারছে তাঁদের মনে। ডাকাবুকো মানুষটি চুপিসারে এইভাবে চলে যাবে ভাবতেই পারছেন না সুভাষের প্রিয় ছাত্ররা। তাঁর অসুস্থতার খবর শুনেছিলেন, মনে প্রাণে আরোগ্য কামনা করছিলেন। তবে কল্পনা করতে পারেননি এভাবে না ফেরার দেশে চলে যাবেন 'পাপা'। ২০০২-২০০৩ মরশুম ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুগ। সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে আশিয়ান কাপ জেতার পাশাপাশি ব্যাক টু ব্যাক জাতীয় লিগ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই সময়ের তারকাখচিত দলকেই লাল হলুদের অন্যতম সেরা দল মানা হয়। আশিয়ান কাপের দলে ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া, মাইক ওকোরো, সুলে মুসা, অ্যালভিটো ডি কুনহা, ডগলাস ডি সিলভা, তুলুঙ্গা, সুরেশ, সন্দীপ নন্দীরা।

সুভাষ ভৌমিকের আকস্মিক প্রয়াণে আশিয়ান কাপ জয়ী দলের সদস্যরা মুষড়ে পড়েছেন। বাইচুংদের কাছে তিনি ছিলেন পিতৃসম। যেমন বকতেন, তেমন পাশেও থাকতেন। প্রয়োজনের সময় একজন অভিভাবকের মতো ফুটবলারদের আগলে রাখতেন সুভাষ ভৌমিক। ফুটবলারদের কোচ ছিলেন তিনি। ম্যান ম্যানেজমেন্ট ছিল দুর্দান্ত। সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাইচুং ভুটিয়া। শনিবারের সকাল যে এই খারাপ বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে ভাবতেই পারেননি তারকা ফুটবলার। ফোনে বাইচুং ভুটিয়া বলেন, 'বাংলার ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি। আমি এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না। উনি কলকাতা ফুটবলের চিত্র বদলে দিয়েছিলেন। আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। ফিজিও কনসেপ্ট শুরু করেছিলেন। জাকুজির ব্যবহার শুরু হয়েছিল। অনেকেই হয়ত তাঁর নিত্যনতুন পদ্ধতি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু উনি নিজের ফুটবল দর্শন নিয়ে এগিয়ে যেতেন। ফুটবলারদের কোচ ছিলেন। সব সময় আমাদের পাশে থাকতেন। ম্যান ম্যানেজমেন্ট অসাধারণ। বাংলার ফুটবলে তাঁর অবদান প্রচুর। একটা শূন্যতা তৈরি হল।'

বিদায়বেলায় তাঁর বেশ কিছু স্মৃতি টাটকা অ্যালভিটোর মনে। ফুটবলজীবনে একবার সুভাষ ভৌমিকের বাড়িতে গিয়ে থেকেছিলেন অ্যালভি। এদিন সেই কথাগুলোই বারবার মনে পড়ছে লাল হলুদের ঘরের ছেলের। অ্যালভিটো বলেন, 'বাংলার তথা ভারতীয় ফুটবলের দুঃখের দিন। ভাল মানুষ ছিলেন। একই সঙ্গে দুর্দান্ত কোচ ছিলেন। আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। আমার চোটের সময় নিজের বাড়িতে আমাকে রেখেছিলেন। নিজের হাতেই আমার যত্ন করতেন। পুরোপুরি ফিট করে মাঠে ফিরিয়েছিলেন। আমি আজকে যেখানে পৌঁছেছি তার যাবতীয় কৃতিত্ব সুভাষ ভৌমিকের। তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় ফুটবলের বড় ক্ষতি।' সুদূর ব্রাজিল থেকেও শোক প্রকাশ করেন তাঁর আরেক ছাত্র ডগলাস। বলেন, 'খুবই খারাপ খবর। কোচের পাশাপাশি উনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন।অনেক কিছু শিখেছি ওনার থেকে। ওনার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।' তাঁর প্রয়াণের খবর পাওয়া মাত্র নিজের ওয়াটসঅ্যাপ ডিপি বদলে ফেলেন ব্রাজিলীয় ফুটবলার। সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন ছবির কোলাজ দেন ডগলাস।

আকর্ষণীয় খবর