আরসালান যে জাগুয়ার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, সেটির দাম প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা

‌আজকালের প্রতিবেদন: মার্সেডিজ গাড়িতে ধাক্কা এবং দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত আরসালান পারভেজকে আগামী ১০ দিন হাজতে কাটাতে হবে। রবিবার তাঁকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে ব্যাঙ্কশাল আদালত। 
এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ আরসালানকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। ওই মামলায় সরকারি আইনজীবী ছিলেন অভিজিৎ চ্যাটার্জি। অভিযুক্তের আইনজীবী ছিলেন অরিত্র ভট্টাচার্য। আদালতে অরিত্র বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা। পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলার যে ধারা প্রয়োগ করেছে, তা এক্ষেত্রে প্রয়োগের উপযুক্ত নয়। গাড়ি কত গতিতে ছিল, তাও এফআইআরে বলা হয়নি।’ সরকারি আইনজীবী জানান, পুলিশ নির্দিষ্ট ধারাতেই মামলা করেছে।
শুক্রবার গভীর রাতে শেক্সপিয়র সরণি–লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে নিজের জাগুয়ার গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে  চালাচ্ছিলেন চেন রেস্তোরাঁ আরসালানের মালিকের ছেলে আরসালান পারভেজ। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সে রাতেই দু’টি জায়গায় আরসালান ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙেছিলেন। 
দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরসালান প্রথমে একটি চলন্ত মার্সেডিজে আড়াআড়ি ধাক্কা মারেন। ধাক্কার অভিঘাতে দুমড়ে যায় মার্সেডিজ গাড়িটি।  তার পরেই আরসালান ধাক্কা মারেন ফুটপাথের পাশে পুলিশ কনসোলে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সেখানে তখন দাঁড়িয়েছিলেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক ফারহানা ইসলাম তানিয়া এবং কাজি মহম্মদ মইনুল আলম। দু’জনকেই ধাক্কা মারে জাগুয়ার গাড়িটি। পরে তাঁদের মৃত্যু হয়। 
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার পর গাড়িটি ফেলে রেখে আরসালান হেঁটে বেকবাগানের বাড়িতে যান। পরে তাঁর খোঁজ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  সে রাতে তিনি কীভাবে বেকবাগানের বাড়ি গেলেন, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, আরসালান গাড়িতে একাই ছিলেন। তিনি অত রাতে কোথা থেকে ফিরছিলেন, তা–ও তদন্তে খোঁজ করে দেখছে পুলিশ।
এদিন আদালতের বাইরে আরসালানের আত্মীয়রা দাবি করেন, ‘এটি নিছক দুর্ঘটনা। আমরাই ওকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলাম।’ আরসালান এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তিনি সায়েন্স সিটির অদূরে একটি বিলাসবহুল আবাসনেও মাঝেমধ্যে থাকেন।
আরসালান যে জাগুয়ার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, সেটির দাম প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা (জাগুয়ারনামা ৩ পাতায়)। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন তাঁদের পারিবারিক সংস্থার নামেই। পুলিশ জানতে পেরেছে, একটি বেসরকারি ঋণদান সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গাড়িটি কেনা। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল, তা জানতে সেটির ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হবে। ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘাতক গাড়িটির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেছেন। নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের মনে হয়েছে , বৃষ্টিভেজা শহরের পথে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে গাড়িটি চালানো হচ্ছিল। 
সেদিন প্রবল বৃষ্টিতে হোটেলে আটকে পড়েছিলেন ওই দু–জন। বৃষ্টি একটু ধরতেই নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল থেকে বেরিয়ে খাবারের খোঁজ করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টিতে আরসালানের গাড়ির ওয়াইপার ঠিকমতো কাজ করছিল কিনা, তা ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা যাবে। এখন প্রশ্ন, আরসালান কি মার্সেডিজ গাড়িটিকে খেয়ালই করেননি?  
পুলিশের একাংশের ধারণা, প্রচণ্ড গতিতে থাকার জন্য ভেজা রাস্তায় গাড়ির চাকা ‘স্কিড’ করে গেলেও যেতে পারে। কিন্তু আরসালান কেন তার আগে  দু–‌বার সিগন্যাল ভেঙেছিলেন, তার কোনও সদুত্তর এদিন পর্যন্ত মেলেনি। ওই দু’টি এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে।‌‌ দুর্ঘটনার পর গাড়ি ফেলে পালিয়ে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের কোনও সদস্য বা বন্ধুবান্ধবকে জানিয়েছিলেন কিনা, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
এদিন আদালতে মুখ ঢাকা অবস্থায় আরসালানকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ শুনানি শুরু হয়। প্রসঙ্গত, এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও শরীরের কয়েকটি জায়গায় সামান্য ছড়ে যাওয়া ছাড়া আরসালানের বড় আঘাত লাগেনি। দু–পক্ষের বক্তব্য শুনে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়।