‌‌আজকালের প্রতিবেদন: হেফাজতে বসে পুলিশের প্রশ্নে বারে বারেই আরসালান পারভেজ বলেছে, ‘‌ভুল করেছি, ভুল করেছি।’ সেদিন আদালতে তোলার সময়ও আরসালান ধীরস্থির হয়ে বসেছিল। কোর্ট লকআপে বসে ভাষাহীন চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছিল আদালতের কড়িবরগা। দূরেই আত্মীয়স্বজনরা দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কথা বলার সুযোগ হয়নি।
জাগুয়ার দুর্ঘটনা–‌কাণ্ডে মঙ্গলবার ফরেনসিক এবং জাগুয়ার সংস্থার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একপ্রস্থ তদন্ত করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। দিল্লি থেকে জাগুয়ার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। গাড়ির ইলেকট্রনিক্স ডেটা রেকর্ডার খোলা হয়েছে। এরপর ডেটা ডিকোডিং করা হবে। এই কাজে সাহায্য করবেন ওই সংস্থারই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুলিশের একটি দল শেক্সপিয়র সরণি থানায় যায়। সঙ্গে ছিলেন হোমিসাইড শাখার অফিসাররা এবং অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ টিমের বিশেষজ্ঞরা। রাত ১টা পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল ও গাড়ি পরীক্ষা করে তারা ফিরে যান। তদন্তে ব্যবহার করা হয়েছে থ্রি–‌ডাইমেনশন ক্যামেরা। এই একই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল নেতাজিনগরে বৃদ্ধ দম্পতি খুনের ঘটনার তদন্তে। সেদিন রাতে আরসালান পারভেজ প্রায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি ছোটাচ্ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
পরিবার সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেদিন রাতেই আরসালান জাগুয়ার গাড়িটি নিয়ে বের হয়। বাড়িতে কোনও বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কোনও আত্মীয়‌স্বজন বা বন্ধুর বাড়ি সে যায়নি। কলকাতারই বিভিন্ন রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে গাড়ি ছোটাচ্ছিল। তারপর রাত হয়ে গেছে দেখে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে গিয়েই দু’‌বার সিগন্যাল ভাঙে। এর পরই বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি ছুটিয়ে সে একটি মার্সিডিজে ধাক্কা মারে। তারপর দুর্ঘটনায় মারা যান দুই বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে বিভিন্ন কোণ থেকে কীভাবে গাড়িটি ধাক্কা মেরেছে এসে, তা পরীক্ষা করেন গোয়েন্দারা। আরসালান মার্সিডিজে আড়াআড়ি ধাক্কা মারার আগে জোরে ব্রেক কষেছিল। কিন্তু রাস্তা ভিজে থাকায়, গতিতে থাকা জাগুয়ারের পাওয়ার ব্রেক মাটি কামড়ে ধরলেও, কিছুটা উড়ে গিয়ে মার্সিডিজের দুই দরজাই ভেঙে দিয়েছিল।
 

জনপ্রিয়

Back To Top