আজকালের প্রতিবেদন: আত্মহত্যাই করেছেন বাগুইআটির গৃহবধূ অন্তরা আচার্য। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনটাই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কী কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন গৃহবধূ?‌ ঘর থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিস। তাতে স্বামীর অত্যাচারের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তদন্তে সফট অয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্বামী সুরজিৎ সরকারের এক বিশেষ বন্ধুর নাম পেয়েছে পুলিস। এই মহিলা সুরজিতেরই সহকর্মী। তাঁর সঙ্গে নাকি সফট অয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, পুলিসের কাছে এমন অভিযোগ এসেছে। আর এখানেই ঘটনা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। তা হলে কি একদিকে সন্তান না হওয়ার কারণে লাগাতার অত্যাচার এবং অন্যদিকে স্বামীর পরকীয়ার জন্য মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা করেছেন অন্তরা?‌ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এ নিয়ে এবার ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিস।
২৮ নভেম্বর রাতে রঘুনাথপুরের বাসিন্দা অন্তরা আচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। স্বামী সুরজিৎ দাবি করেন, স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর ২ ডিসেম্বর অন্তরার বাবা রঞ্জিত আচার্য বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করেন, সন্তান না হওয়ায় মেয়ের ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় সুরজিৎকে। তাঁর দেওয়া বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার তাঁকে নিয়ে রঘুনাথপুরের ফ্ল্যাটে যায় পুলিস। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় অন্তরার হাতে–লেখা কয়েকটি চিরকুট। তাতে মৃত্যুর জন্য স্বামীকে দায়ী করার পাশাপাশি সন্তানহীনতার জন্যও সুরজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে।
এর আগে অন্তরার এক পুরুষ–বন্ধুর নাম পেয়েছিল পুলিস। মঙ্গলবার সেই বন্ধু–সহ ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিস কর্তারা। তদন্তে উঠে আসে এক মহিলার নাম। দীর্ঘক্ষণ তাঁর সঙ্গে নাকি চ্যাট করতেন সুরজিৎ। স্বামীর এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় অন্তরার মানসিক অবসাদ আরও বেড়ে যায়। দাম্পত্যকলহ নতুন মোড় নেয়। পুলিস সূত্রে খবর, ওই মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকারও করেছেন ধৃত সুরজিৎ। পুলিসের অনুমান, আগেও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অন্তরা। এই কারণে হাতে–লেখা একাধিক চিরকুট পাওয়া গিয়েছে। যা সুইসাইড নোট বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে খবর, গৃহবধূর দেহের ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকেরা যে প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে এই ঘটনা ‘‌অ্যান্টি মর্টেম হ্যাঙ্গি’‌ বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তরার। খুন করার পর ঝোলানো হয়নি। যা থেকে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top