আজকালের প্রতিবেদন: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন এতটাই খারাপ যে, ‌‌জিডিপি বৃদ্ধি বা মোট জাতীয় উৎপাদনের হার ৫–‌এর নীচে নেমে গেছে। বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধিও ভারতের থেকে অনেক ভাল। জানালেন অর্থমন্ত্রী ড.‌ অমিত মিত্র। এই রকম পরিস্থিতে বণিক সভাগুলি রাজ্য সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার রাজ্য বাজেট পেশের আগে বণিক সভাগুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।
নবান্ন সভাঘরে এদিনের এই বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে এখন ‘‌স্ট্যাগফ্লেশন’‌ চলছে (‌অর্থাৎ চড়া হারে মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি বেকারত্ব বাড়ছে, কিন্তু চাহিদা আদৌ না বাড়ায় বৃদ্ধির হার কমছে)‌। ৪৫ বছরের মধ্যে এখন দেশে সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব। এই স্ট্যাগফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থাই করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। নোটবন্দির আগে জিডিপি ছিল ৮.‌১। এটা নামতে নামতে ৫ হয়ে গেছে। ৩–‌এর দিকে এখন নামছে। মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা এসে পড়েছে শাকসবজি উৎপাদনেও। ‌ডিসেম্বরে শাকসবজিতে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬০.‌২ শতাংশ। কয়লা, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইস্পাত, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, সারের মতো ক্ষেত্রে জিডিপি–‌র বৃদ্ধি নেতিবাচক। 
অর্থমন্ত্রীর কথায়, ১৯৭২ সালে আমেরিকায় একবারই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিই ছিল এর কারণ। কিন্তু এ দেশে এমন পরিস্থিতি হয়নি। অর্থমন্ত্রীর মতে, নোটবন্দি ও অপরিকল্পিত ভাবে জিএসটি চালু দেশকে এতটা খারাপ জায়গায় নিয়ে গেছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ–‌রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্বীকার করেছেন, ৪৪ হাজার কোটির জিএসটি প্রতারণা হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কথা, রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলে এই অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটিতে পৌঁছোবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে এই তথ্য তিনি চিঠি লিখে জানিয়েছেন। জিএসটি চালুর সময় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছিল। এ রাজ্য আগস্ট–সেপ্টেম্বরের টাকা অনেক লেখালিখির পর পেয়েছে। কিন্তু অক্টোবর থেকে এ–পর্যন্ত জিএসটি বাবদ একটা টাকাও পায়নি রাজ্য। দেশে যখন অর্থনীতির এই বেহাল অবস্থা, তখন রাজ্যের জিডিপি–‌র হার আশাব্যঞ্জক। এর বড় কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি নানা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। 
অসংগঠিত ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় যাতে আরও অনেক বেশি লোক আসতে পারেন, তার জন্য বণিক সভাগুলিও রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করছে। যেমন বঁাকুড়ার বণিক সভাগুলি জেলাশাসকের সাহায্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রে দেড় লক্ষ কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে এসেছে। এদিনের বৈঠকের আগেই বণিক সভাগুলি লিখিত আকারে তাদের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর হাতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। সে–‌প্রস্তাব নিয়েই এদিন আলোচনা হয়। এদিনের বৈঠকে সিআইআই, অ্যাসোচেম, ফিকি, বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স, বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স–‌সহ ১৯টি বণিক সভার ৬০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।‌‌‌‌‌‌‌

স্ট্যাগফ্লেশন কী: চড়া হারে মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি বেকারত্ব বাড়তে থাকে, কিন্তু চাহিদা আদৌ না বাড়ায় বৃদ্ধির হার কমে যায়।
 

জনপ্রিয়

Back To Top