আজকালের প্রতিবেদন: সব ধরনের প্রকল্পেই যাতে সামঞ্জস্য থাকে, মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যের অর্থনীতি যাতে দুটি শক্ত পায়ে ছন্দ মিলিয়ে চলতে পারে, তাই এবারই প্রথম, রাজ্য বাজেট থেকে পরিকল্পনাভুক্ত ও পরিকল্পনা–বহির্ভূত বাজেটের সীমারেখা তুলে দেওয়া হল। তিনদিনব্যাপী বাজেট আলোচনায় সুখবিলাস বর্মা থেকে শুরু করে সুজন চক্রবর্তী— বিরোধীদের একটানা সমালোচনার এভাবেই জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড.‌ অমিত মিত্র। সুজন চক্রবর্তী পরিকল্পনামাফিক বাজেটের ভিত্তির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হরিপুরা কংগ্রেসের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টানেন। আবার স্বাধীন ভারতে প্ল্যানিং কমিশনে দুই গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ ও মেঘনাদ সাহার প্রসঙ্গও তোলেন। জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১১ সালে রঙ্গরাজন কমিটি পরিকল্পনাভিত্তিক প্রকল্প লালনপালনে পরবর্তী কালে সঙ্কটের কথা বলেছিলেন। তার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমনকী ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারই এই সীমারেখা তুলে দিয়েছে। আমরাও তুলে দিলাম মানুষের সার্বিক উন্নয়নের কথা ভেবে।  কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, রাজ্যের মন্ত্রীদের বেতন বাবদ বার্ষিক ব্যয় ৪০ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাহলে সরকারি কর্মীদের ডিএ বকেয়া আছে কেন?‌ বেশ কয়েকজন বিরোধী বক্তার অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যের বকেয়া ঋণ যা ছিল গত ৭ বছরে তার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। অমিত মিত্র কিন্তু এই ঋণের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করেছেন। বলেছেন, মূলধনে ব্যয় ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ শতাংশ। ঘাটতি কমেছে বহুগুণ। আর তৃণমূল বিধায়িকা নবাগতা জ্যোৎস্না মান্ডি বলেছেন, এই বাজেট জঙ্গলমহলের কান্না দূর করার বাজেট। তৃণমূল বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউড়ি বলেন, বাংলায় কত গরিব ঘরের মেয়েরা অর্থের অভাবে সুস্থভাবে বিয়ের সুযোগ পেত না, আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এক মহিয়সী নারী। তিনি সবার দিদি। তাই তাঁরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বিয়ের সুযোগ পান, তাই এগিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নরেশচন্দ্র বাউড়ি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের নামে শ্রী শব্দটাকে জোড়ার পাশাপাশি বাংলার জীপনযাপনেও শ্রী এনেছেন। বাংলার জীবনযাপন এখন শ্রীযুক্ত। সিপিএমের মানস মুখার্জি বলেন, বাংলার কৃষকের বার্ষিক আয় নাকি ২ লক্ষ টাকার ওপর। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটেও বলা হয়েছে। ‘‌রূপশ্রী’‌র ২৫ হাজার টাকা পাবে সেইসব পরিবার, যার বার্ষিক আয় 
২ লক্ষ টাকার নিচে, তাহলে কৃষকেরা ক’‌জন 
এই টাকা পাবেন?‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভিন রাজ্যের শ্রমিক বিপদে পড়ে এ রাজ্যে এলে আর্থিক সাহায্য পাবেন। সেটা ক’‌জন পেয়েছেন?‌ সাপ্লিমেন্টারি বাজেট আলোচনার সময় সুখবিলাস বর্মা সমালোচনা করে বলেন, নোটবন্দির জন্য পরিযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সেটা কবে কাকে দেওয়া হয়েছে তা সভাকে জানালে ভাল হয়। প্রসঙ্গত, সাপ্লিমেন্টারি বাজেট বিরোধিতার কোনও সুযোগ থাকে না।‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top