আজকালের প্রতিবেদন: জ্বলন্ত ফানুস উড়ে এসে পড়ছে খঁাচার ভেতরে। ভয় পাচ্ছে জন্তুরা। তাই ফানুস নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এবার পথে নামবেন আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। পুলিস ও পুরসভাকে সঙ্গে নিয়েই এই কাজ করতে চান তঁারা। আগামী বছর দীপাবলির আগে থেকেই এ কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এক দিকে সচেতনতা এবং পাশাপাশি প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবেন, তারাও যেন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকে। 
এ বিষয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর আশিস সামন্ত বলেন, ‘‌এ বছর বেশ কয়েকটি জ্বলন্ত ফানুস জন্তুদের খঁাচায় এসে পড়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই জন্তুরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। দুর্ঘটনা ঘটতেই পারত। সে–‌কারণেই আমরা আগামী বছর থেকে ফানুস নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে জোর দেব। অনুরোধ জানাব, যাতে তঁারা এই বাজিতে আগুন দেওয়ার আগে জন্তুদের কথা একটু ভেবে দেখেন।’‌
মাংসাশী জন্তু, যেমন বাঘ বা সিংহ সাধারণত রাতে খঁাচায় ঢুকে যায়। কিন্তু তৃণভোজী প্রাণী, যেমন হরিণ, জিরাফ বা জেব্রারা রাতে বাইরেই থাকে। চিড়িয়াখানার একটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কালীপুজো এবং দীপাবলি উপলক্ষে ফানুস উড়ে গিয়ে ওদেরই খঁাচার ভেতরে পড়েছিল। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ওরা ভয় পেয়ে চঞ্চল হয়ে ওঠে। 
ডিরেক্টর বলেন, ‘‌এমনিতেই হরিণ, জিরাফ বা জেব্রারা একটু ভিতু প্রকৃতির। তার ওপর যদি সামনে আগুন এসে পড়ে, তবে ভয় পেয়ে তারা এদিক–‌ওদিক ছোটাছুটি করতে পারে। এর ফলে মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষে যেমন জখম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তার পাশাপাশি থাকে পালাতে গিয়ে খঁাচার গায়ে আছড়ে পড়ে জখম হওয়ার সম্ভাবনা। যা যথেষ্টই চিন্তার।’
তবে শুধু ফানুস নয়, রাতের দিকে ফাটানো কিছু শব্দবাজির জন্যও ভয় পেয়েছে জন্তু আর পাখিরাও। যদিও এই শব্দবাজির সংখ্যাটা কম। তা সত্ত্বেও আশপাশের বসতি থেকে যে–‌ক’‌টি শব্দবাজি ফাটানো হয়েছে, তাতে পাখি–সহ তৃণভোজী প্রাণীরা ভয় পেয়েছে। আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছেন কর্মীরা। ডিরেক্টর জানিয়েছেন, ‘পাখিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা খুব বেশি হয়। অন্য পাখিদের সঙ্গে ময়ূর, ম্যাকাও, ধনেশ বা টিয়াপাখিরা এতটুকু অস্বাভাবিক আওয়াজ পেলেই চঞ্চল হয়ে চিৎকার করতে শুরু করে। ফলে আগামী বছর ফানুসের সঙ্গে শব্দবাজি নিয়েও আমাদের তরফে প্রচার করা হবে। এ বছর কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু হতে কতক্ষণ!‌‌’‌

জনপ্রিয়

Back To Top