আজকালের প্রতিবেদন: অ্যালার্জি টেস্ট না করেই আড়াই বছরের ঐত্রী দে–কে অগমেন্টিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া ঘটে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয় একরত্তি শিশুটির। এছাড়াও অগমেন্টিন ইঞ্জেকশন ওষুধের ডোজ মিলিলিটারের বদলে মিলিগ্রাম হিসেবে দেওয়া হয়েছে। বুধবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।  
মুকুন্দপুর আমরি হাসপাতালে আড়াই বছরের শিশু ঐত্রী দে–র মৃত্যু–মামলার এদিন দ্বিতীয় দফার শুনানি ছিল স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের অফিসে। যাবতীয় নথি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হলফনামা আকারে জমা দেওয়া হয়। ঐত্রীর পরিবার ও আমরির চিকিৎসক, নার্সদের মুখোমুখি বসিয়ে এদিন জিজ্ঞাসাবাদ চলে। আমরির প্রাক্তন ইউনিট হেড জয়ন্তী চ্যাটার্জি, অভিযুক্ত চিকিৎসক জয়তী সেনগুপ্ত, একজন আরএমও ও তিনজন নার্সকে ডাকা হয়েছিল। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। নার্সদের লিখিত বয়ান জমা নেওয়া হয়। শুনানির পর মৃত শিশুর মা শম্পা জানিয়েছেন, ‘‌দ্রুত শুনানি হওয়ায় আমরা খুশি। কমিশনের তদন্তে আস্থা আছে। দেখা যাক কী হয়।’ 
শম্পা বলেন, ‘‌আমরির নার্সরা সমানে মিথ্যে কথা বলে গেছে। পুরো ঘটনা ওরা সাজিয়ে বলছে। আমি নিজে দেখেছি অগমেন্টিন ইনঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নার্স বলছে, শুধু র‌্যানটাক ইঞ্জেকশন দিয়েছে।’‌ পরিবারের অভিযোগ, নার্সরা বলেছেন জয়তী সেনগুপ্ত টেলিফোনে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন। অথচ চিকিৎসার নথিতে কোথাও তাঁর নাম নেই।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও হাসপাতালে চিকিত্‍সার যাবতীয় নথি পরীক্ষা করে ঐত্রীর পরিবারকে লিখিত রিপোর্ট দিয়েছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ অজয়কুমার গুপ্ত। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভর্তির পর নিয়মিত অগমেন্টিন দেওয়ার ফলে মৃত্যু হয়েছে। অবস্থার যখন অবনতি হয় শেষ সময়ে যদি সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া যেত তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত। ঐত্রীকে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ৩টি অগমেন্টিন ইনঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ফলে শরীরের বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। যেমন লিভার, কিডনি–সহ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐত্রীর মামা পঙ্কজ বেরা জানিয়েছেন, ‘‌অগমেন্টিন ইন্ট্রাভেনাস ডোজ মিলিলিটারের বদলে মিলিগ্রামে দেওয়া হয়েছে, যার ফল মারাত্মক।’ ১৭ জানুয়ারি মুকুন্দপুর আমরিতে মৃত্যু হয় আড়াই বছরের ঐত্রীর। হাসপাতাল বলেছিল, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। 

জনপ্রিয়

Back To Top