আজকালের প্রতিবেদন: দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ দখল করল এসএফআই। সভাপতি, সহ–সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং গার্লস কমন রুম সেক্রেটারি— এই ৫টি পদেই এসএফআই প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এর আগে ছাত্র সংসদ দখল করলেও কোনও দিন গার্লস কমন রুম সেক্রেটারি পদে জেতেনি এসএফআই। এবার এই পদেও এসএফআই–এর শ্রুতি রায় মুহুরি ১০৭ ভোটে জিতেছেন।
বেশ ভাল ফল করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদও। ক্যাম্পাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনও ইউনিট না থাকা সত্ত্বেও এই প্রথম খাতা খুলে ৫টি শ্রেণি প্রতিনিধি (‌সিআর)‌ পদে জিতেছে তারা। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‌নির্দল হিসেবে কয়েকজন জয়ী প্রার্থী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এই প্রথম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমাদের সমর্থনে নির্দল প্রার্থীরা জিতলেন। কোনও ইউনিট না থাকা সত্ত্বেও ৫টি সিআর জেতার জন্য ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়েছি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ভাল ফল করবে।’‌ ক্যাম্পাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পক্ষে সুপ্রিয় চন্দ্র বলেন, ‘‌আমরা তৃণমূল সমর্থিত নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মিলিয়ে ৫টি সিআর পদে জিতেছি। যে যে বিভাগে জিতেছি সেগুলি হল — বাংলা, ইতিহাস, ভূগোল, হিন্দি।’‌ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বক্তব্য, সিআর পদে তাদের সমর্থিত ৫ প্রার্থী জেতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি খুব খুশি হয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার তাঁদের বাড়িতে ডেকেছেন।
সব মিলিয়ে ১১৫টি সিআর পদের মধ্যে এসএফআই জিতেছে ৫৮টি। আইসি পেয়েছে ৪৭টি। এআইএসএফ ২। আইসা, ডিএসও, এসজিএস ১টি করে জিতেছে। নির্দল পেয়েছে ৩টি। ইতিহাস বিভাগ থেকে এবিভিপি ২টি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবার মোট ছিল ভোটার আড়াই হাজার। সকাল ১১টা থেকে ভোট শুরু হয়। গণনা শুরুর সময় থেকেই ৫টি পদেই এগিয়েছিল এসএফআই। ২০১০ সালে শেষবার ছাত্র সংসদ জিতেছিল এসএফআই। মাঝের বছরগুলিতে ছাত্র সংসদ ছিল আইসি–‌র দখলে। ২০১৭ সালে শেষ যেবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল সেবারও আইসি বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসোলিডেশন জিতেছিল। এত বছরের ব্যবধানে এসএফআইয়ের জয় নিয়ে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌প্রেসিডেন্সিতে গত ২–৩ বছর ধরে লড়াইয়ের মুখ এসএফআই। আইসি  ইউনিয়নে ছিল নামেই। ছাত্রদের দাবি–দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করত এসএফআই–ই। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটের ফলাফলে। ছাত্রছাত্রীরাও বুঝেছেন ক্যাম্পাসের বাইরের ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে লড়তে পারবে একমাত্র এসএফআই।’‌
বিপুল ব্যবধানের এই হার নিয়ে আইসি–‌র পক্ষে সায়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘‌কেন এমন ফল হল তা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। এক কথায় এর ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। হিন্দু হস্টেল–সহ ছাত্রছাত্রীদের দাবি–দাওয়া নিয়ে আইসি লড়াই করেছে। কিন্তু কেন ভোটের ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা গেল না, সেটা আমাদের খুঁজতে হবে।’‌ আইসি–‌র একাংশের বক্তব্য, এই রকম যে ফলাফল হবে তার কোনও আগাম ইঙ্গিতও ছিল না।‌

জয়ের পর ছাত্রছাত্রীদের উল্লাস। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বৃহস্পতিবার। ছবি:‌ তপন মুখার্জি

জনপ্রিয়

Back To Top