সংবাদ সংস্থা, কলকাতা: গভীর সঙ্কটের মুখে ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। অবস্থা সামলাতে হলে এখনই সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। সতর্ক করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। সঙ্কটের জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজরদারির অভাবের দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, এই পরিস্থিতিতে রুগ্‌ণ ব্যাঙ্কগুলি বিক্রি করে সেই টাকায় অন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করুক সরকার। 
বুধবার একটি সংবাদমাধ্যমকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘‌বর্তমানে কঠিন সমস্যার মুখে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা।  একাধিক ব্যাঙ্ক আর্থিক সঙ্কটের মুখে। যত বেশি গভীরে যাওয়া যাবে, তত বেশি সমস্যা সামনে আসবে। দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই নতুন কোনও ব্যাঙ্কে সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। কাল পর্যন্ত ঠিক ছিল যে পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক, হঠাৎই সেই ব্যাঙ্ক সঙ্কটের জেরে ধরাশায়ী। এই সঙ্কটের মধ্যে একটা ছকও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  মনে হয়, বহু বছর ধরে বিশৃঙ্খলা চলতে দেওয়া হয়েছে। সমস্যাটা এখন রীতিমতো গভীরে। অবস্থা সামলাতে যত টাকার দরকার সরকারের কাছে তত টাকা নেই। যথাযথ হবে রুগ্‌ণ ব্যাঙ্কগুলিকে বিক্রি করে তা থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে অন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বাঁচানো দরকার। অন্তত রুগ্‌ণ ব্যাঙ্কগুলির অনেক শাখা আছে, ভাল কিছু কর্মী রয়েছেন। তাই সেগুলোর বাজারও আছে। আরও নতুন সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই এগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারের একাজ করার মতো যোগ্যতা নেই। অন্য কাউকে এর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।’‌  সম্প্রতি তথ্যের অধিকার আইনে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অনাদায়ী ঋণ হিসাবে মুছে ফেলেছে ৭৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে ফেরত দেননি ২২০ জন। এদের প্রত্যেকের ঋণের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি টাকার ওপর। অভিজিৎ ব্যানার্জির মতে, এটা হিমবাহের চূড়া মাত্র। এই পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ সৃষ্টি করবে। তার জন্য ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের দায়ী করা যায় না। এসবের মধ্যেকার ছকটাও স্পষ্ট হচ্ছে। কেউ এবিষয়ে মুখ খুলছেন না। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কও সব ব্যাঙ্ককে সতর্ক করছে না। তারপর হঠাৎ করে লোকে দেখছে ব্যাঙ্ক সঙ্কটে। 
তথ্য বলছে, গত তিন বছরে ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ মোট ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা ফেরত দেননি ৪১৬ জন। গড়ে ঋণগ্রহীতা পিছু অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪২৪ কোটি টাকা। আবার বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের কাছ  থেকে ১০০ কোটি বা তার বেশি ঋণ ফেরত না দেওয়ায় তাদের ক্ষতি হয়েছে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। শেষ পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ৫০০ কোটি বা তার বেশি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। গত সপ্তাহেই সামনে আসে পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা। নয়ছয়ের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি। এই ব্যাঙ্ক যে ৯০ হাজার কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিল, তার ৭০ শতাংই নিয়েছিল রিয়েল এস্টেট সংস্থা এইচডিআইএল। মুম্বই পুলিসের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা জানাচ্ছে, এইচডিআইএল–এর ঋণ অনাদায়ী হওয়া সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তা জানায়নি।

জনপ্রিয়

Back To Top