শান্তনু সিংহ রায়: একটা–‌দু‌টো নয়, ভিড়ের মধ্যে বই দেখার অছিলায় বিভিন্ন স্টল থেকে ১৯টি বই সরিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। ধরা পড়ার পর কোন স্টল থেকে কী বই চুরি করেছেন, সবটা বলতেও পারেননি। 
বইমেলা থেকে ১০০০ টাকার বই হাতিয়েছিলেন আরেকজন। বইগুলি কোন স্টলের পুলিসের কাছে তা স্বীকার করেছেন। বইয়ের দাম মিটিয়েছেন তঁার আত্মীয়। 
সোমবার এই দু’‌জনকে বইমেলায় বই চুরির অভিযোগে ধরা হয়েছিল। বইয়ের দাম দিয়ে দেওয়ার পর তঁাদের অবশ্য ছেড়েও দিয়েছে পুলিস। প্রথমজন ইঞ্জিনিয়ার। সরকারি দপ্তরে চাকরি করেন। বছর‌ পঁয়তাল্লিশের এই ব্যক্তির বাড়ি নদীয়ায়। তাঁর চুরি করা বইগুলির মোট দাম ২৯০০ টাকা। নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে বইয়ের দাম মিটিয়ে পুলিসের হাত থেকে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় জন ছাত্র। বয়স ২২ বছর। স্টলে পছন্দের বইটি দেখে লোভ হলেও পকেটে টাকা ছিল না। পুলিসের হাতে ধরা পড়ার পর অগত্যা তিনি ফোন করেন এক আত্মীয়কে। তিনি বইমেলায় এসে বইয়ের দাম মিটিয়ে দিয়েছেন।
দু’‌জনই ‘‌বিশেষ বইপ্রেমী’‌। বইয়ের পাতা ওল্টানোর অছিলায় চুরির মতো মহাবিদ্যে ফলাতেও যাদের হাত কাঁপে না। তবে প্রথম জন ক্লিপ্টোম্যানিয়ায় আক্রান্ত বলে মনে হয়েছে পুলিসের। মঙ্গলবার বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, ‘‌উচ্চপদে চাকরি করেন। অবস্থাপন্ন পরিবার। পকেটে বইগুলি কেনার মতো টাকাও ছিল। তা সত্ত্বেও চুরি করেছেন। এতগুলি বই সরিয়েছেন যে, সেগুলি কোন কোন স্টলের সবটা বলতেও পারেননি। আমরা তাঁর কাছ থেকে দাম নিয়ে, যে যে স্টলের নাম তিনি বলতে পেরেছেন, তাদের ফেরত দিয়েছি। বাকি টাকাটা জমা দিয়েছি গিল্ড কর্তৃপক্ষের কাছে।’‌
বইমেলায় অবশ্য এই বিশেষ বইপ্রেমীদের হাজিরা নতুন নয়। প্রতি বছরই তারা হানা দেয়, ধরাও পড়ে অনেকে। মেলায় সিসি টিভি ও নিরাপত্তার কড়াকড়িতে এদের আনাগোনা অবশ্য কিছুটা কমেছে। এ বছর সোমবারই প্রথম বই 
চুরির অভিযোগ জমা পড়ে পুলিসের কাছে।
বইমেলায় হাজির পকেটমার, মত্ত যুবারাও। সোমবার বইমেলার বাইরে থেকে ৩ পকেটমারকে পাকড়াও করেছে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে ২ জনের বাড়ি বাগুইআটিতে, ১ জনের ভাঙড়ে। এছাড়া মত্ত অবস্থায় গোলমাল পাকানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ যুবক।

জনপ্রিয়

Back To Top