আজকালের প্রতিবেদন: খুলে গেল উল্টাডাঙা উড়ালপুলের বাইপাস–বিমানবন্দরগামী রাস্তাটি। বৃহস্পতিবার রাতেই এটি চালু করে দেওয়া হল। এদিন সকালে সেতু পরীক্ষা করে দেখেন সেতু বিশেষজ্ঞরা। সন্ধেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌বিশেষজ্ঞ কমিটি উড়ালপুল দেখেছে। আটটি জায়গায় ফাটল ধরা পড়েছে। ম্যাকিনটোশ বার্ন এটা তৈরি করেছিল। তাঁদের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। নকশা অনুযায়ী কাজের মান কম হয়েছে। বিমানবন্দরগামী লেনটি খুলে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকেই।  কাল সকাল থেকেই ম্যাকিনটোশ বার্ন কাজ শুরু করে দেবে। চেষ্টা করা হচ্ছে, নীচে একটা বেইলি ব্রিজ করে দেওয়ার।’‌ পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে যাতে মেরামতের কাজ শেষ করা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। না হলে বেইলি ব্রিজের কথা ভাবা হচ্ছে। সেইসঙ্গে তদন্ত রিপোর্ট এবং উচ্চ পর্যায়ের কমিটির রিপোর্ট খঁুটিয়ে দেখা হচ্ছে। কেএমডিএ–র একটি সূত্র জানিয়েছে, কার্বন র‌্যাপিং দিয়ে মেরামতির চেষ্টা করা হচ্ছে। 
এদিন সেতু পরীক্ষা করার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফাটল গভীরে যায়নি। তৈরি হয়েছে ওপরের অংশে। দুশ্চিন্তারও কোনও কারণ নেই। সেতু বিশেষজ্ঞ অমিতাভ ঘোষাল, সমীরণ সেন–সহ অন্য বিশেষজ্ঞরা উড়ালপুল পরীক্ষা করতে যান। ছিলেন খড়্গপুর আইআইটি’‌র বিশেষজ্ঞ এবং কেএমডিএ–র অন্য আধিকারিকরাও। হাইড্রলিক মইয়ে চেপে সেতুর যেখানে ফাটল হয়েছে সেই জায়গা এবং বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন তঁারা। কংক্রিটের মান পরীক্ষার জন্য এদিন সেতু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এদিন পরীক্ষার পর অমিতাভ ঘোষাল জানিয়েছেন, অনেক কারণে ফাটল হতে পারে। ফাটল গভীরে যায়নি। সেতু নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। এর স্বাস্থ্য ভাল আছে।
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সেতুটির স্বাস্থ্যপরীক্ষার সময় ফাটল দেখতে পান কেএমডিএ–র বিশেষজ্ঞরা। সেতুটির বাইরের অংশে এই ফাটলগুলি ধরা পড়ে। এর পরেই সেতুটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো ওই দিনই সন্ধে সাতটার পর সেতু দিয়ে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘুরিয়ে দেওয়া হয় গাড়ির অভিমুখ। ফলে, গাড়ির চাপে বিভিন্ন রাস্তায় তৈরি হয় যানজট। বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে বিমানবন্দরগামী রাস্তায় গাড়ির গতি ছিল ধীর। ‌

‌উল্টোডাঙা উড়ালপুলের ফাটল পরীক্ষা করছেন কেএমডিএ–‌র ইঞ্জিনিয়াররা। বৃহস্পতিবার। ছবি:‌ জয় সাধুখঁা

জনপ্রিয়

Back To Top