আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ হরিদেবপুরে পিসির বাড়িতে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবতী ও তার প্রেমিক সহ ৩। বৃহস্পতিবার সকালেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। মূল অভিযুক্ত ঐন্দ্রিলা রায়ের পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয়েছে তার প্রেমিক রূপম সমাদ্দার এবং ডাকাতির জন্য ভাড়া করা ব্যক্তি পবিত্র দেবনাথ। আজ তাদের আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বিদেশে যাওয়ার টাকা জোগাড় করতেই পিসির বাড়িতে  ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল ঐন্দ্রিলা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির যুবতী ঐন্দ্রিলা এবং হরিদেবপুরের ডায়মন্ড পার্ক আবাসনের শালমনি সম্পর্কে পিসতুতো–মামাতো বোন। সমবয়সী হওয়ায় দু’জনের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। মাঝেমধ্যেই দিদি শালমনির কাছে যেত ঐন্দ্রিলা। বুধবার দুপুরেও গিয়েছিল। সঙ্গে ছিল প্রেমিক রূপম। জানা গিয়েছে, সেসময় শালমনি স্নান করছিলেন। বাড়িতে ছিলেন পরিচারিকা কল্পনা। তারা গিয়ে পৌঁছতেই প্রথমে তাঁদের জল দেন পরিচারিকা। তারপরই বঁটি নিয়ে কল্পনার উপর চড়াও হয় ঐন্দ্রিলা ও রূপম। কল্পনার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন শালমনি। তাঁকেও বঁটির কোপ মারা হয়। 
দু’জনই অজ্ঞান হয়ে গেলে পবিত্রকে বাড়িতে ডেকে নেয় ঐন্দ্রিলা ও রূপম। লুটপাটের জন্যই পবিত্র নামের ওই যুবককে ভাড়া করা হয়েছিল। এরপর বাড়ির আলমারি থেকে টাকা, গয়না লুট করে তিনজন। পুলিশ জানিয়েছে, লুটের পর ঐন্দ্রিলা, রূপম পোশাক পরিবর্তন করে নেয়। তারপর পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনার কিনারা করে পুলিশ জানিয়েছে, যে পোশাক পরে তারা লুটপাট চালিয়েছে, প্রমাণ লোপাটের জন্য সেই পোশাক তারা ভ্যাটে ফেলে দেয়। হরিদেবপুর থানার পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার কিনারা করে ফেলে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
জানা গেছে, ঐন্দ্রিলা বিবাহবিচ্ছিন্না। পুলিশের দাবি, জেরায় ঐন্দ্রিলা জানিয়েছে বিদেশে যাওয়ার জন্য ১৯ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে চাইছিল সে। সেই টাকা চাইতেই পিসির মেয়ের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু অত টাকা দিতে রাজি হননি পেশায় চিকিৎসক তার পিসেমশাই বা পিসতুতো দিদি। তাই লুটের ছক কষে। পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করতে তারা সুপারি কিলার পবিত্রকেও নিজেদের পরিকল্পনায় শামিল করে। যদিও শেষরক্ষা আর হল না। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় তারা।

জনপ্রিয়

Back To Top