আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথমবার হয়নি। কিন্তু তাতে মোটেও না দমে চাঁদে মহাকাশযানের সফ্‌ট ল্যান্ডিং সফল করাতে বদ্ধ পরিকর ইসরো। সেই নতুন প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এবার শুধু চাঁদই নয়, অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহেও নিজেদের মহাকাশযান সফ্‌ট ল্যান্ডিং করাতে উন্মুখ ইসরো। এই কর্মযজ্ঞে এবার সামিল হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাঙালি গবেষক সায়ন চ্যাটার্জি এবং অমিতাভ গুপ্ত।
যাদবপুরের  ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিনিউকেশন্স্‌–এর সহকারী অধ্যাপক তথা কোইনভেস্টিগেটর সায়ন বললেন, সিমিউলেশন বেসড্‌ মডেল ল্যান্ডারের অবতরণের সময় সেটাকে ধীরে ধীরে চক্রাকারে নীচের দিকে যে পৃষ্ঠে সে নামবে সেদিকে পালকের মতো নিয়ে যাবে। এবং লক্ষ্য রাখবে যাতে এটা তীব্র গতিতে না পড়ে যায় বা ক্র‌্যাশল্যান্ড না করে। এই চক্রাকারে নামার বিষয়টি রাখা হয়েছে যাতে শেষ মুহূর্তে যখন ল্যান্ডার নীচে নামছে তখন কৌণিক অবস্থান থেকে সেটি দেখে নিতে পারে নীচে কোনও পাথর বা রুক্ষ জমি রয়েছে কিনা। উদাহরণ স্বরূপ সায়ন বললেন, ঠিক যেভাবে চিল আকাশে উড়তে উড়তে কৌণিকভাবে তার শিকারকে চিহ্নিত করে। তিনি বললেন, পুরনো সব তথ্য অনুসারেই এই সিমিউলেশন ডিজাইন করা হচ্ছে। একবার ডিজাইন সম্পন্ন হয়ে গেলে ইসরো সেটার ফেব্রিকেশন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্ত বললেন, ল্যান্ডারের যথাযথ অবতরণই এই গবেষণার মূল উদ্দশ্যে। যেমন কীভাবে ল্যান্ডার ঘুরছে, কীভাবে চলছে, অবতরণের সময় চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের টানে যেন আচমকা তার গতি না বাড়ে, উল্টে পিছিয়ে এসে অবতরণের সময় গতি একদম কমিয়ে দিতে পারে, সেসবই পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন তাঁরা। অমিতাভ আরও বলেছেন, এটা ইসরোর চন্দ্রযান প্রকল্পের অংশ নয়। চাঁদ ছাড়া অন্যান্য সব গ্রহ, উপগ্রহ যেখানে মহাকাশযান পাঠাতে চাইছে ইসরো, সর্বত্রই ল্যান্ডারের সফট্‌ ল্যান্ডিং–এ সাহায্য করবে। এই প্রকল্পটি ইসরোর রেসপন্ড প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত। মহাকাশ বিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
 এই কাজে স্নাতক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টার্ন হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিশিষ্ট অধ্যাপক তথা বিজ্ঞানী ইসরোর এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় স্বভাবতই খুশি প্রোভিসি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। আগামী বছর চন্দ্রযান–৩ আকাশে উড়তে পারে। দুই বিজ্ঞানী আশাবাদী, তাঁদের কাজ এই তৃতীয় মিশনে কাজে লাগবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top