আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্যেই কলকাতায় ডেরা বেঁধেছিল পাঞ্জাবের দুই মোস্ট ওয়ান্টেড দুষ্কৃতী জয়পাল ভুল্লার ও যশপ্রীত খারার!‌ পাঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর এমনটাই মনে করছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। এক্ষেত্রে নেপালে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল বলে মনে করছেন এসটিএফ সদস্যরা। 
এ বিষয়ে এসটিএফের এক আধিকারিক বলেন, পাঞ্জাব পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি আমাদের সামনে এসেছে। গত মে মাসে পাঞ্জাবে দুই পুলিশকর্মী খুনের পর এদের হন্য হয়ে খুঁজছিল পাঞ্জাব পুলিশ।‌ পালানোর জন্য কখনও এরা উত্তর ভারত যায়, আবার কখনও মধ্যপ্রদেশ। শেষপর্যন্ত পালিয়ে চলে আসে কলকাতায়। উদ্দেশ্য ছিল এখান থেকে বিদেশে পালিয়ে যাবে তারা।‌ আর এ রাজ্য থেকে কাছাকাছি যে দুটি দেশ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হল বাংলাদেশ অপরটি নেপাল। বাংলাদেশ যেতে পাসপোর্ট লাগে। কিন্তু নেপালে ঢুকতে গেলে পাসপোর্ট প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ দিয়ে এরা নেপালে ঢুকে পড়ার পরিকল্পনা করেছিল। আর যেহেতু এদের আইএসআই যোগাযোগটাও উঠে আসছে ফলে নেপালে গিয়ে তাদের সহযোগিতায় সহজেই পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলতে পারত তারা। 
কেন এদের সঙ্গে আইএসআই যোগাযোগ উঠে আসছে সে প্রশ্নে ওই আধিকারিক বলেন, পাঞ্জাব পুলিশের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে এরা দু'জনেই মাদকের কারবার করত।‌ যেই মাদকটা মূলত চোরাপথে পাকিস্তান থেকেই আসত বলে পাঞ্জাব পুলিশ আমাদের জানায়। দ্বিতীয়ত, বুধবার গুলির লড়াই শেষ হওয়ার পর এদের ঘর অনুসন্ধান করে আগ্নেয়াস্ত্র বা যে ক্যারিব্যাগগুলি পাওয়া গেছে তা সবই পাকিস্তানের। বিশেষ করে ছোট যে পিস্তলটি উদ্ধার হয়েছে তা পাকিস্তানেই ব্যবহার হয়। সেইসঙ্গে ক্যারিব্যাগে পাকিস্তানের ছাপ। প্রায় ১০টার কাছাকাছি ক্যারিব্যাগ পাওয়া গেছে। আমাদের সন্দেহ, এই ব্যাগে করেই ওই দেশ থেকে মালপত্র এদের কাছে আসত। আর একটা বড় বিষয় হল এতগুলো মাইক্রোচিপ। সাধারণ অপরাধীর কাছে এত চিপ কখনই থাকবে না। কারণ, এই চিপ ব্যবহার করে ফেক আইডেন্টিটি তৈরি করা যায়। যেটা এদের পালিয়ে থাকতে দরকার ছিল। তবে দু'জনের দেহই পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

জনপ্রিয়

Back To Top