আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ছোটবেলা থেকেই দুই হাত অকেজো। তাতেও দমে যাননি পেমা শেরিং। এক পায়ে ছেনি আর অন্য পায়ে হাতুরি নিয়েই কাঠের কাজ শুরু করেছিলেন পেমা শেরিং। কাঠ খোদাই করে তৈরি করছেন মূর্তি। এখন তিনি ভুটানে ‘‌পা–শিল্পী’‌ নামেই পরিচিত। এই মুহূর্তে তিনি ভুটানের সবচেয়ে পরিচিত কাঠ–শিল্পী। চিত্রশিল্পীও বটে। 
সেই খোদাইয়ের কাজ করতে করতেই তাঁর নিজের জীবনের গল্প বলে গিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে। ছোট থেকেই সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত পেমা। আর সেই কারণেই যখন তাঁর বয়স ছয়, বাবা–মাও ছেড়ে চলে যান। ঠাকুমার কাছেই ছোট থেকে মানুষ। অর্থের অভাবে পড়াশুনাও করা হয়নি। তাই তখন থেকেই কাঠের কাজ শুরু করেছিলেন পেমা। কাঠ দিয়ে বল্লম, ধনুক ইত্যাদি বানিয়ে তা বিক্রি করে যা রোজগার হত, তাতেই কোনওরকমে চলছিল। হঠাৎ একদিন ভুটানের রানীর সঙ্গে সাক্ষাতে পেমার গোটা জীবনটাই যেন বদলে গেল। রানীর প্রভাবেই থিম্পুর বিখ্যাত আর্ট ইনস্টিটিউট জোরিগ চুসুমে পড়াশুনা শুরু করেন তিনি। সেখানেই খোদাই ও ছবি আঁকার কাজ শিখেছিলেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। থিম্পু শহরেই একটি দোকান তৈরি করে সেখানে কাঠ শিল্পের কাজ শুরু করেন। 
তাঁর কাঠ–শিল্পকে কোনও নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে ফেলা যায় না। কখনও ড্র‌্যাগনের মূর্তি খোদাই করেছেন আবার কখনও ফুলের চিত্রকল্প। আবার কখনও অষ্টমঙ্গলার চিহ্নগুলিকেও কাঠে খোদাই ফেলেছেন। ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রদর্শনীতেও তাঁর কারুকার্য ও চিত্রকল্প দেখানো হয়েছিল। সম্প্রতি থাংকা চিত্রের কাজ করাও শুরু করেছেন তিনি। বৌদ্ধ ধর্মের দর্শন তুলে ধরার জন্যই যুগ যুগ আগে থাংকা চিত্রের উদ্ধব হয়েছিল। পরিস্কার কাপড়ের ক্যানভাসে বৌদ্ধ ধর্মের দেবতাদের ছবি আঁকা হয় এক্ষেত্রে।   
সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ‘‌আমি এখন যা কাজ করি, তা ভালোই লাগে। কিন্তু কখনও কখনও মনে হয় অনেক কিছুই করা হচ্ছে না। একটা ছোট কাঠের কারুকার্য করতেই তিনদিন সময় লাগে। আর বড় কাজ হলে গোটা সপ্তাহ লেগেই যায়। একটি থাংকা চিত্র তৈরি করতেই দুই–তিন সপ্তাহ লেগে যায়।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top