‌‌‌‌‌ঋত্বিক দাস (‌চেয়ারম্যান, বিএনসিসিআই)‌: গাড়ি নেই, বাস নেই। বিমান তো নেইই। এমনকী বিশ্ববিখ্যাত শিঙ্কানসেন বুলেট ট্রেনও নেই। সব স্তব্ধ। টোকিওর যে হোটেলে আছি, সেই ক্রাউন প্লাজা হোটেল নারিতায় আটকে পড়েছি বাধ্য হয়ে। সঙ্গে আছে স্ত্রী জয়িতা, ছেলে রাচিক। বেরোব তার জো নেই। সামনের রাস্তাটা জনমানবশূন্য। অবশ্য টোকিও–‌সহ সারা জাপানে একই ছবি। যেন অঘোষিত বন্‌ধ। জাপানকে তটস্থ করেছে সুপার টাইফুন ‘‌হাগিবিস’। গত সপ্তাহেই তার আগমনবার্তা পেয়েছিল প্রশাসন। তাই কোনও ঝুঁকি নেয়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই অবরুদ্ধ জাপান। 
গত দু’‌দিন ধরেই ‘‌হাগিবিস’‌–‌এর টুকরোটাকরা খবর পাচ্ছি। এখানকার আবহাওয়া দপ্তর বলেছিল, ‘‌হাগিবিস’‌–‌এর জেরে ৩০ ইঞ্চি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার গতিতে ঝড় আসবে। সেইসঙ্গে সমুদ্রে ৪১ ফুট উচ্চতার ঢেউ ওঠার আশঙ্কা। ‘‌হাগিবিস’‌–‌এর দাপটে টোকিও মেট্রোপলিটন এলাকা-সহ মধ্য জাপানের কান্ট-কোশিন অঞ্চলে বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। সতর্ক করেছে প্রশাসন। আমাদের মতো বিদেশি নাগরিকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছে। খবর পেয়েছি, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে ‘‌হাগিবিস’‌। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫–‌এ দাপট বুঝিয়ে ছেড়েছে ‘‌হাগিবিস’‌। তার গতি ছিল ২১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। বয়েছে ১৪ হাজার কিমি জুড়ে। উত্তর থেকে উত্তর–‌পশ্চিম জাপান চার গতিপথ। শক্তিক্ষয় হয়েছে অনেকটাই। তাই ‘‌হাগিবিস’‌–‌কে আর সুপার টাইফুন বলছে না জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। বলছে শুধু টাইফুন। আজ অথবা রবিবার জাপানের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল হনসু দ্বীপে তুলনায় ক্ষয়িষ্ণু ‘‌হাগিবিস’‌–‌এর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তারপর টোকিওর দিকে আসবে। তারপর রবিবার দুপুরে উত্তর জাপানের হোক্কাইডোর পূর্বাংশের ওপর দিয়ে যাবে বলে আবহাওয়া দপ্তরের খবর।

জনপ্রিয়

Back To Top