সংবাদ সংস্থা
ওয়াশিংটন, ১৯ অক্টোবর

নির্বাচন আসন্ন আমেরিকায়। ঘরে–‌বাইরে নানা ইস্যুতে জর্জরিত বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাকাল হয়েছেন করোনাভাইরাস সামাল দিতে। একাধিক বর্ণবিদ্বেষী হামলায় এই মহামারীর সময়েও গণ বিক্ষোভ দেখেছে মার্কিন মুলুক। এই অবস্থায় করোনার টিকাকে হাতিয়ার করেই জন সমর্থন আদায়ে মরিয়া ট্রাম্প।
আগেই বলেছেন, মার্কিনিরা সবাই করোনা প্রতিরোধের টিকা পাবেন। ‘‌অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’‌ প্রকল্পের আওতায় আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৩০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ চলে আসবে। ‘‌ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজ’‌–‌এর প্রধান অ্যান্থনি ফওচিও বলেছিলেন, বছর শেষের আগেই টিকা চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন খবর হল, ব্রিটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি প্রতিষেধক যাতে আমেরিকাই পায়, তার জন্য দেশের প্রতিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অ্যাস্ট্রাজেনেকা যে পরিমাণ টিকার ডোজ তৈরি করবে, তার পুরোটাই নাকি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
আগে এলে আগে পাবে, এই অবস্থান নিয়ে চলছে ‘‌অ্যাস্ট্রাজেনেকা’‌। যে দেশ প্রথম তাদের টিকায় সবুজ সঙ্কেত দেবে, তাদেরই প্রথম প্রতিষেধক সরবরাহ করা হবে। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‌যদি আমেরিকার ওষুধ নিয়ামক সংস্থা প্রথম সবুজ সঙ্কেত দেয়, তারাই পাবে।’‌ তাই সম্ভাবনা থাকছে, ব্রিটেনের আগেই অক্লফোর্ডের টিকার ডোজ চলে যাবে আমেরিকায়।
করোনা টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। বছর শেষের আগেই টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট টিকা নিয়ামক কমিটিকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ব্রিটেনে টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকাই সবচেয়ে এগিয়ে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাকি ১০ কোটি টিকার ডোজের জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। 
অন্যদিকে, আমেরিকার কোনও সংস্থাই এখনও টিকা আনার সময়সীমা ঘোষণা করেনি। তবে ও দেশের নামী ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার‌ জানিয়েছে, তারা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই টিকা আনতে চায়। ক্নিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্ট তার আগেই জমা করা হবে। টিকার পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরিকাঠামোও তৈরি। 
স্রেফ অর্থের জোরে টিকা কিনে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠছে বিশ্বে। মাইক্রোসফ্‌ট কর্তা বিল গেটস জানিয়েছিলেন, বড় বড় রাষ্ট্রনেতা ক্ষমতা আর অর্থের জোরে আগে থেকেই টিকা কিনে রাখার পরিকল্পনা করেছেন, যার অর্থ, গরিব ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে টিকার কোনও ডোজই পৌঁছবে না। সারা বিশ্বে টিকার সমবণ্টন না হলে করোনা মহামারীকে রোখা সম্ভব নয়, মনে করিয়ে দেন তিনি। টিকার সমবণ্টনের জন্য ‘কোভিড ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাকসেস’ তথা ‘কোভ্যাক্স’ কর্মসূচি তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তাদের সঙ্গে টিকা বণ্টন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করবে ‘‌কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন’‌ ও আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‌গাভি’‌। কোভ্যাক্সের উদ্দেশ্য হল, চাহিদা অনুযায়ী সব দেশেই করোনার টিকা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষত যে দেশগুলিতে সংক্রমণের হার ও মৃত্যু বেশি, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে আমেরিকা, জাপান, জার্মানি ও ইওরোপের অন্য দেশগুলিকে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিল হু। কিন্তু এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে আমেরিকা। উল্টে হু–‌র সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন সংক্রান্ত কোনও কাজ না করার কথাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top