সমীর দে
ঢাকা, ৮ অক্টোবর

মহালয়ায় দেবী দুর্গা পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন, মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিন আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে প্রস্থান করেন। অগণিত ভক্তের মনে তাই বিদায়ের বিষাদ। তবে বিষাদ ভুলে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানাতে ভক্তরা সিঁদুর খেলায় মাতেন। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুরে রাঙান, নাচ-গান করেন; যেন সারাবছর এমন আনন্দে কাটে।
এমন আনন্দ-বেদনার আবহে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানীর সদরঘাট সংলগ্ন বিনা স্মৃতি স্নানঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। শুরুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজামণ্ডপ তাদের প্রতিমা বিসর্জন দেয়। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। 
ধানমন্ডি থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসা শ্রী কৃষ্ণ বলেন, ‘কোনও সমস্যা ছাড়াই সুন্দরভাবে মাকে বিদায় দিতে পেরে খুবই তৃপ্তি লাগছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা তিনি যেন সবার মনের আশা পূরণ করে দেন। পৃথিবীর সব মানুষের ওপর খুশি হন। জগতের মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে দেন। সর্বোপরি বাংলাদেশকে রক্ষা করেন।’
সদরঘাটের কেন্দ্রীয় বিসর্জন নিয়ন্ত্রণ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবছর রাজধানী ঢাকায় ৩১ হাজার ৭৬৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, অনাকাঙ্তি ঘটনা ছাড়া পূজা উদযাপন করা হয়েছে। এদিকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সদরঘাট এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। র‌্যাব, পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
দুর্গাপূজায় সবশেষ রীতিটি হচ্ছে ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানান। সিঁদুরে মুখ রঙিন করে হাসি মুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগান, নাচ-গান করেন, যেন সারা বছর এমন আনন্দেই কাটে।
রীতি অনুযায়ী সধবা নারীর স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। এই সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সব বয়সীরাই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করেন; নেচে-গেয়ে এতে অংশ নেন। অবিবাহিতরা গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন মঠ ঘুরে দেখা যায়, লাল শাড়ি, লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরা নারীরা দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাদ্যের তালে তালে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে বিদায়ের প্রস্তুতি। 
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। তিনি বলেন, ‘এই বছর বাংলাদেশে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে, এজন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
 

জনপ্রিয়

Back To Top