সংবাদ সংস্থা
৮ জুলাই, জেনিভা

করোনাভাইরাস বাতাসবাহিত হয়ে সংক্রমণ ছড়াতে পারে— তেমন সম্ভাবনার কথা মেনে নিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‌হু)‌।  ‌৩২টি দেশের ২৯৩ জন বিজ্ঞানী সম্প্রতি দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস বেশ কিছুক্ষণ বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। এবিষয়ে নানা জায়গা থেকে যা প্রমাণ আসছে, তা বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যবিধিতে বদল আনতে পারে হু। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির হাঁচি–‌কাশির সময় নাক ও মুখ থেকে বেরনো জলকণা হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়, যা একটা ঘরের সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এবং ওই ভাইরাস বেশ কিছুক্ষণ হাওয়ায় সক্রিয় থাকে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেও ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে। পরেও কারও শরীরে তা বাসা বাঁধতে পারে। এর অর্থ, শুধু সামাজিক দূরত্ব পালন করলেই এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। 
হু–‌অধিকর্তা টেড্রস অ্যাডানম জানিয়েছেন, এখনও সংক্রমণ কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং বেড়েই চলেছে। বিশ্বে প্রথম ৪ লক্ষ আক্রান্ত হতে ১২ সপ্তাহ লেগেছিল, এখন এক সপ্তাহে চার লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আধানম বলেন, ‘এখনও সংক্রমণ শিখরে পৌঁছয়নি। তবে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। কিছু দেশ মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পেরেছে।’‌
এদিকে করোনা সংক্রমণের জেরে কতরকম সমস্যা যে ধরা পড়ছে, তা নিয়েও আসছে নানা রিপোর্ট। দেখা দিতে পারে নানা স্নায়বিক সমস্যাও। ভুল বকা, মস্তিষ্কে প্রদাহ, স্ট্রোক বা স্নায়ুর অন্য ক্ষয়ক্ষতি এসবও ঘটতে পারে, বলছেন একদল গবেষক। ‘‌ব্রেন’‌ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এগুলোর প্রত্যেকটিই যে সরাসরি করোনাভাইরাসের জন্য ঘটছে তা নাও হতে পারে। তবে সুস্থ কোষের ওপরও দেহের সুরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করতে শুরু করায় এরকম ঘটতে পারে। এর মধ্যে আছে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমায়েলাইটিস (‌এডিআইএম)‌ নামে মস্তিষ্কের প্রদাহের একটি বিরল সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা, যাঁদের মধ্যে আছেন ইউনিভার্সিটি লন্ডন কলেজের গবেষকরা। আগে যদি মাসে একজনের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা ধরা পড়ত, এখন সপ্তাহে একজন এই সমস্যা নিয়ে আসছেন। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, শ্বাসকষ্ট নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রথমেই স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ে আসছেন কোভিড–‌আক্রান্তরা।

জনপ্রিয়

Back To Top