‌‌সংবাদ সংস্থা
ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‌হু)‌ দখল করে নিয়েছে চীন। হু–র কর্তারা চীনের কথা শুনে চলছেন। এই অভিযোগে হু থেকে পাকাপাকি ভাবে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। রাষ্ট্রপুঞ্জকে নোটিস দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়েও দিল ট্রাম্প প্রশাসন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফানি দুজারিক জানিয়েছেন, হু ছাড়তে চেয়ে আবেদন করেছে আমেরিকা। ৬ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম হল, হু ছাড়তে হলে এক বছর আগে নোটিশ দিতে হবে। তার মানে ২০২১–এর ৬ জুলাইয়ের আগে আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। নভেম্বরে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পদে বসার প্রথম দিনেই তিনি হু–তে যোগ দেবেন এবং ওই বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন। ফলে ট্রাম্পের চীনকে দায়ী করে হু ছাড়ার এই পদক্ষেপ কতটা ভোটের দিকে তাকিেয়, উঠছে সেই প্রশ্নও।
গোড়ার দিকে মার্কিন স্বাস্থ্যকর্তারা সতর্ক করা সত্ত্বেও নিজের দেশে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাকে তোয়াক্কাই করেননি ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত যখন কোভিডে আমেরিকা জুড়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু শুরু হল, তখন ট্রাম্প দাবি করলেন, চীনই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। তারা ভাইরাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে রাখায় সংক্রমণ এত বেশি। তঁার দাবি ছিল, কোভিড সংক্রমণের জন্য চীনকে দায়ী করে তদন্ত শুরু করুক হু। হু–কর্তারা ট্রাম্পের দাবি মানেননি। তঁাদের বক্তব্য ছিল, ভাইরাস যে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়, তা বুঝতে হু–র সময় লেগেছে। চীনকে দায়ী করে আমেরিকার আনা প্রস্তাব ভোটে হেরে যায় হু–র বার্ষিক বৈঠকে। মে মাসেই ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন হু–র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমেরিকা। আমেরিকাই হু–কে সবচেয়ে বেশি টাকা দেয়। বছরে ৩০০০ কোটি টাকার মতো। সেখানে চীন দেয় মাত্র ২৮০ কোটি টাকা।
চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে একটা বিশ্বমঞ্চ থেকে আমেরিকার সরে আসার সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না সে দেশের রাজনীতিকরা। ডেমোক্র‌্যাটিক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতে, এই সিদ্ধান্ত সত্যিকারের নির্বুদ্ধিতা। এভাবে অতিমারীর সময়ে হু ছাড়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য। বৈদেশিক বিষয় সংক্রান্ত হাউস কমিটির চেয়ারম্যান এলিয়ট এঞ্জেল বলেন, ‘হু–র ঘাড়ে দোষ চাপালেই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ভুলের দায় এড়াতে পারবে না। বরং হু–র সদস্যপদ বজায় রেখে, কোভিড টেস্ট বাড়িয়ে, সবাইকে মাস্ক পরতে ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলতে বাধ্য করেই এই বিপজ্জনক সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ সেনেটর জেফ মার্কলের মতে, হু ছেড়ে দিয়ে ট্রাম্প এই সংস্থায় তো বটেই, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও চীনের হাতই শক্তিশালী করছেন। এতে মার্কিন স্বার্থের বিপুল ক্ষতি হবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top