আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌মৃত মহিলার জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ব্রাজিলের এক মহিলা জন্ম দিলেন কন্যাসন্তানের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রতিস্থাপন এবং সন্তান জন্ম বিশ্বে প্রথম ব্রাজিলেই হল। মৃতের জরায়ু নিজের শরীরে প্রতিস্থাপন করে কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন ব্রাজিলেরই এক তরুণী। দ্য ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।
দাতার জরায়ুর শিরার সঙ্গে গ্রহীতার ধমনী, শিরা, লিগামেন্ট, ভ্যাজাইনাল ক্যানালকে সংযুক্ত করতে হয়েছে চিকিৎসকদের। এর আগে মৃত দাতার শরীর থেকে জরায়ু প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে অন্তত দশ বার। আমেরিকা, তুরস্ক ও চেক রিপাবলিকে এই প্রতিস্থাপন হলেও, কোনও ক্ষেত্রেই সন্তানের জন্ম দিতে পারেননি মা। তবে জীবিত কারও জরায়ু অন্য মহিলার শরীরে প্রতিস্থাপন করে সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্ভব আগেও হয়েছে। সুইডেনে ২০১৩ সালে এমন প্রক্রিয়ায় মা হন এক মহিলা। মোট ৩৯টি জরায়ু প্রতিস্থাপন এই প্রক্রিয়ায় হয়েছে, যেখানে জীবিত মহিলার জরায়ু প্রতিস্থাপিত হয়েছে অন্য মহিলার দেহে। এবং ১১টি শিশুর জন্ম হয়েছে সেখানে। কিন্তু জীবিত মহিলার থেকে জরায়ু পাওয়া কঠিন ব্যাপার।
দ্য ল্যানসেট জানিয়েছে, ব্রাজিলে শিশুকন্যাটির জন্ম হয়েছে সিজারের মাধ্যমে। তার ওজন আড়াই কেজি। গর্ভাবস্থার ৩৫ সপ্তাহে তার জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের ডাক্তার ড্যানি আইজেনবার্গ এই বিষয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক মৃত দাতার শরীর থেকে জরায়ু নিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন গ্রহীতার বয়স ছিল ৩২। এই পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন সম্ভব। মৃত দাতার থেকে জরায়ু সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করা হলে সন্তানহীন মহিলাদের মা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়তে পারে। এখন নিয়ম অনুযায়ী, আত্মীয়দের মধ্যে কেউ জীবিত অবস্থায় তাঁর জরায়ু দান করতে রাজি থাকেন, তা হলেই প্রতিস্থাপন করা হয়।’‌
কিন্তু ঘটনা হলো, জরায়ু দান করতে ইচ্ছুক এমন জীবিত মহিলাদের সংখ্যা বেশি নয়। বরং অনেকেই মৃত্যুর পরে জরায়ু দান করে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফলে এই ভাবে প্রতিস্থাপন হলে বন্ধ্যা মহিলাদের মা হওয়ার সুযোগ অনেকটাই বাড়ে।

জনপ্রিয়

Back To Top