আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেহাল। আগামী দিনে তা আরও খারাপ হতে চলেছে। কয়েকদিন আগে একথাই জানিয়েছিল আইএমএফ। ঠিক তার পরেই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল, বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দশ ধাপ পিছিয়ে গিয়েছে ভারত। আজ রবিবার বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়ে দিল, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছয় শতাংশে নেমে আসবে। গত অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০১৮–১৯ সালে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬.‌৯ শতাংশ। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির আর্থিক বৃদ্ধির হার কী, তাই নিয়েই আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বিশ্বব্যাঙ্ক। তারই রিপোর্টে প্রকাশিত হল এই তথ্য। তবে বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট কিছু আশার আলোও দেখিয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ৬‌.‌৯ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর ২০২২ সালে আর খানিকটা বেড়ে ৭.‌২ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি সংক্রান্ত যে তথ্য কেন্দ্রের মোদি সরকার প্রকাশ করছে, তার চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই খারাপ, বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী। ২০১৭–১৮ অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.‌২ শতাংশ ছিল। 
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসেই দেশের প্রধান প্রধান শিল্পগুলিতে উৎপাদনে ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। উৎপাদনমূলক শিল্পগুলির বৃদ্ধিও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। কৃষিখাত এবং সার্ভিস সেক্টরের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বেহাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না। যার প্রভাব পড়ছে দেশের মূল শিল্পগুলিতে। শোচনীয় অবস্থা দেশের গাড়ি শিল্পে। কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাগুলি। কারণ বিক্রি নেই। বিক্রি নেই কারণ মানুষের হাতে টাকা নেই। ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন সাধারণ মানুষ। আর এই পরিস্থিতির জন্য মোদি সরকারের নোট বন্দি ও জিএসটি নীতিকেই দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা।   

জনপ্রিয়

Back To Top