আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রথমে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা। তারপর দীর্ঘদিন কোমায় থেকে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসতেই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার। রাশিয়ায় পুতিন–বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ আলেক্সি নাভালনির মুক্তি দাবিতে গত শনিবার যে বিক্ষোভ দেখা গেল মস্কোতে, তেমন নাকি আগে কখনও দেখা যায়নি। নেপথ্যে ছিলেন একজনই। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ায় বিরোধী রাজনীতির আলোকবৃত্তে এখন তিনিই।
প্যারোলের নিয়ম ভঙ্গ করায় ২০১৪ সালের একটি মামলায় নাভালনিকে ৩০ দিনের হেপাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই শুনানি। রায় বিপক্ষে গেলে বেশ কয়েক বছর জেলেই কাটাতে হবে রাশিয়ার এই বিরোধী নেতাকে। এই পরিস্থিতিতে পুতিন বিরোধী মুখ হিসেবে উঠে আসতে পারেন স্ত্রী ইউলিয়ায়। আপাতত তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে রুশ রাজনীতিতে। ইউলিয়ারও যে যথেষ্ট ইচ্ছে আছে, তা তিনি নিজেই ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁকে ‘‌নাভালনির গ্যাং’‌–এর সদস্য বলা হয়েছে বলে পাল্টা জবাবে ইউলিয়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘‌নাভালনিই কেন গ্যাং–এর নেতা?‌ আমার তো মনে হয়, ওই গ্যাং–এর বস এখন আমি। উনি (‌নাভালনি)‌ এখন সমর্থক মাত্র।’‌ 
নাভালনি কোমায় চলে যাবার পর থেকে তাঁর দেশে ফেরা পর্যন্ত গোটা সময়টায় বলতে গেলে নিয়মতিই খবরে ছিলেন ইউলিয়া৷ প্রতিদিন দেশি–বিদেশি শত সাংবাদিকের ভিড় সেখানে৷ সবার প্রশ্ন, কেমন আছেন নাভালনি? জ্ঞান ফিরেছে? কবে ছাড়া পাবেন? সব প্রশ্নের উত্তর দিতেন ইউলিয়া নাভালনায়া৷ স্বামী মৃত্যুশয্যায়৷ আবেগ গোপন করতে সবসময় কালো চশমা পড়ে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। গত ১৭ জানুয়ারি আলেক্সি–ইউলিয়া শেরেমেতেভো বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে আসে পুলিশ। সেই সময়ে স্বামীর গালে চুমু দিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে নাভালনায়া বলেন, ‘‌আলেক্সি আর আমি ভয় পাইনি৷ আপনারাও ভয় পাবেন না৷’‌ আর তক্ষুণি ‘ইউলিয়া, ইউলিয়া’ বলে চিৎকার ‌শুরু হয়ে যায় গোটা বিমানবন্দর চত্বরে। শনিবারের বিক্ষোভে ইউলিয়াকেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করেছিল পুলিশ৷ পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ 
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কন্সটানটিন কালাচেভ বলছেন, রাশিয়ায় এখন অনেকের কাছে এখন ইউলিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নাভালনির চেয়েও বেশি৷ পুতিনের বিরুদ্ধে একই লোক দেখতে দেখতে মানুষ তিতিবিরক্ত৷ সেই একঘেয়েমি কাটালেন ইউলিয়াই। পুতিন–বিরোধী নতুন নেতা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে তাঁর, বলছেন কালাচেভ৷

জনপ্রিয়

Back To Top